দেউলিয়া রাজকোষ বাঁচাতে মরিয়া স্বপন দাশগুপ্ত, এবার কি তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ?
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে রাজ্যের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ২০২৬-২৭ আর্থিক বছর শেষে ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭০,৬৫৩ টাকা। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের মেয়াদ শেষে রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ছিল ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত ১৫ বছরে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় ও আয়ের তুলনায় ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের ফলে রাজ্য বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। নীতি আয়োগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের বার্ষিক আয়ের ২০ থেকে ২৮ শতাংশই ব্যয় হয় পুরনো ঋণের সুদ মেটাতে, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে।
এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার চলতি বছরে ঋণ ও সুদ বাবদ প্রায় ৯৮,০০০ কোটি টাকার দায় মেটানোর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো, চড়া সুদের পুরনো ঋণ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘ঋণ পরিচালন সেল’ গঠন এবং সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচনের মতো কঠোর নীতিগত পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।