হাসপাতালে ভিডিও করায় শিক্ষিকাকে ‘বন্দি’ ও মারধর! নেপথ্যে কী?
কলকাতার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক সরকারি স্কুল শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও জোর করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, গত ৯ জুন মায়ের অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের বিদ্যুৎ ও এসি ব্যবস্থা বিকল থাকায় তিনি তার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এই ঘটনার জেরে হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে ৫ তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ২ ঘণ্টা বেল্ট ও চাদর দিয়ে বেঁধে রাখে। অভিযোগ, হাসপাতালের ৭-৮ জন পুরুষ কর্মী তাঁকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও গলা টিপে হত্যার হুমকি দেয়। এছাড়া, পরিবারের অনুমতি ছাড়াই জোর করে স্যালাইন দেওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চাপ দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষিকা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি নিউ আলিপুর ও বারুইপুর থানায় এ বিষয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই শিক্ষিকা স্নায়বিক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এবং ওষুধের ডোজ কমে যাওয়ায় তিনি উত্তেজিত হয়ে নিজেই নিজের স্যালাইনের চ্যানেল টেনে ছিঁড়ে ফেলেন, যার ফলে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।