রথযাত্রার আগে জগন্নাথদেব কোথায় যান? এই মন্দিরে পুজো দিলেই মিলবে অসীম পুণ্য!
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রার পর ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অসুস্থ হয়ে ‘অনসার’ ঘরে ১৫ দিনের জন্য বিশ্রাম ও বিশেষ চিকিৎসায় থাকেন। এই সময় ভক্তরা পুরীর মূল মন্দিরে জগন্নাথদর্শনের সুযোগ পান না। তবে ভক্তদের সুবিধার্থে এই ১৫ দিন পুরী থেকে প্রায় ২৫–৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রহ্মগিরির বিখ্যাত ‘আলারনাথ’ মন্দিরের দরজা খোলা থাকে। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, অনসার চলাকালীন এই মন্দিরে জগন্নাথদেব ‘বিষ্ণু’ রূপে পূজিত হন এবং এখানে পুজো দিলে তা মূল মন্দিরের দর্শনের সমান পুণ্য বয়ে আনে।
আলারনাথ মন্দিরের প্রধান বিগ্রহটি কালো পাথরে নির্মিত একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি, যার গর্ভগৃহে রুক্মিণী ও সত্যভামা রয়েছেন। এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ক্ষীর ভোগ’। জনশ্রুতি আছে, এক শিশু ভক্তের ভক্তি ও ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে স্বয়ং জগন্নাথদেব গরম ক্ষীর খেতে গিয়ে নিজের আঙুল পুড়িয়ে ফেলেছিলেন, যার চিহ্ন আজও বিগ্রহের গায়ে স্পষ্ট বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। এছাড়া মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবও অনসার কালে এই মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবকে দর্শন করতেন। অনসারের ১৫ দিন শেষে ‘নবযৌবন দর্শন’-এর মাধ্যমেই মূল মন্দিরে জগন্নাথদেবের পুনরুত্থান ঘটে এবং এরপরই বিশ্ববিখ্যাত রথযাত্রা শুরু হয়।