এক বছরের মধ্যে কি মোদী সরকারের পতন? ‘অপারেশন ৩৭’ ঘিরে তোলপাড় ভারত

সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর বার্তা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘অপারেশন ৩৭’ নামক এই গোপন অভিযানের নেপথ্যে আমেরিকার ‘ডিপ স্টেট’ বা একটি শক্তিশালী নেপথ্য শক্তির হাত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভাইরাল এই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে যে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে ভারতের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।

কী এই অপারেশন ৩৭ ও ডিপ স্টেট

দাবি করা হচ্ছে, আমেরিকার ধনকুবের ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমান্তরাল ব্যবস্থা বা ‘ডিপ স্টেট’ এই ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হলো ভারতীয় জনতা পার্টির অন্তত ৩৭ জন সাংসদকে দল থেকে বিচ্যুত করে সরকারকে সংখ্যালঘু করা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনেও এই একই শক্তির হাত ছিল বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অশান্তি সৃষ্টির অপকৌশল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভারতে জাতিগত ও আঞ্চলিক ভেদাভেদ উসকে দেওয়া এবং ভুয়া আন্দোলনের মাধ্যমে দাঙা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি কৃষকদের সমস্যা বা সংবিধান রক্ষার দোহাই দিয়ে দেশে অভ্যন্তরীণ বিবাদ তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভ বা লাদাখের আন্দোলনকে এই জাতীয় বিদেশি স্পন্সরড কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও নিরাপত্তার সংকট

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তৎপরতায় ইতোমধ্যেই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ড্রোনসহ জনৈক আমেরিকান এজেন্ট ও ইউক্রেনীয় নাগরিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, মণিপুর বা মিজোরামের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে উন্নত মানের অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এর আগেও আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন সময় নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে এই ভাইরাল বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এক ঝলকে

  • হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল বার্তায় দাবি করা হয়েছে, ১২ মাসের মধ্যে মোদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’।
  • ‘অপারেশন ৩৭’-এর লক্ষ্য হলো অন্তত ৩৭ জন বিজেপি সাংসদকে দলে ভাঙন ধরিয়ে সরকারকে দুর্বল করা।
  • সিআইএ ও বিদেশি শক্তির সহায়তায় দেশে কৃত্রিম অস্থিরতা ও দাঙ্গা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
  • কলকাতা বিমানবন্দরে আমেরিকান এজেন্ট ও ড্রোন আটকের ঘটনাকে এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় যোগসূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *