শুধু নিয়ম করে ইসবগুল খেয়েই কমানো সম্ভব ওজন ও গ্যাস-অম্বল? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতার কথা

সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ইসবগুলের পরিচিতি থাকলেও, এর উপকারিতা যে আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে তা প্রমাণ করলেন ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিটনেস কোচ ডন গো। সম্প্রতি টানা চার সপ্তাহ প্রতিদিন তিনবার করে ইসবগুল খাওয়ার একটি পরীক্ষা চালান তিনি। পরীক্ষার শুরুতে কিছুটা শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলেও, শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়েছেন।

প্রাথমিক জটিলতা ও অভাবনীয় পরিবর্তন

ডন তার পরীক্ষায় প্রতিবার খাবারের আগে দুই টেবিল চামচ ইসবগুল গ্রহণ করতেন, যা থেকে তিনি দিনে প্রায় ৪৮ থেকে ৫৬ গ্রাম ফাইবার পাচ্ছিলেন। প্রথম দুই দিন তিনি প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, ইসবগুল প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করে নেয় বলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। জলের পরিমাণ বাড়ানোর সাথে সাথে তার ক্লান্তি কেটে যায় এবং তৃতীয় দিন থেকে খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি বা ‘ক্রেভিং’ কমতে শুরু করে।

পাচনতন্ত্র ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

চতুর্থ দিন থেকেই তার হজম প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আসে এবং সপ্তম দিনে পেটের গ্যাস ও ফাঁপা ভাব পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসবগুল অন্ত্রে জেল তৈরি করে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ডন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত জল পান না করলে ইসবগুল অন্ত্রে শক্ত হয়ে আটকে যেতে পারে। যদিও কৃত্রিম উপায়ে ফাইবার গ্রহণ ফলদায়ক, তবুও তিনি শাকসবজি ও ফলমূলের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে ফাইবার সংগ্রহের ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • ফিটনেস কোচ ডন গো টানা ২৮ দিন প্রতিদিন তিন বেলা ইসবগুল খেয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন।
  • সঠিক পরিমাণে জল পান না করায় প্রাথমিক পর্যায়ে ক্লান্তি দেখা দিলেও পরবর্তীতে হজমশক্তি উন্নত হয়।
  • নিয়মিত সেবনে পেটের গ্যাস, অস্বস্তি এবং অসময়ে খিদে পাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
  • এটি অন্ত্রে প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে নিয়মিত করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *