কেরলে শিউরে ওঠা ঘটনা: ফুড পয়জনিং নয়, বালিশের নিচে থাকা বিষধর সাপের ছোবলে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের!
কেরালার ত্রিশূর জেলার কোডালিতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। মৃত শিশুর নাম আলজো। গত রবিবার রাতে নিজের ঘরে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঘুমানোর সময় বিষধর সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অসতর্কতা এবং প্রাথমিক উপসর্গ বুঝতে ভুল করার কারণেই এই করুণ পরিণতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুল চিকিৎসায় কালক্ষেপণ
ঘটনার সূত্রপাত হয় রাত আনুমানিক ২টার দিকে, যখন আলজো এবং তার বড় ভাই আনোজ পেটে ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। আগের রাতে তারা বাড়িতে তৈরি জুস পান করেছিল। ফলে বাবা-মা ধারণা করেন এটি সাধারণ ‘ফুড পয়জনিং’ বা পেটের সমস্যা। বিষক্রিয়ার অন্য কোনো বাহ্যিক লক্ষণ তাৎক্ষণিক নজরে না আসায় তারা শিশুদের গরম পানি খাইয়ে আবারও ঘুম পাড়িয়ে দেন। কিন্তু ভোরে দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আলজোকে মৃত ঘোষণা করেন।
বালিশের নিচে ঘাতক সাপ
হাসপাতালে আলজোর ঠোঁটে সাপের কামড়ের চিহ্ন শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। এরপর বাড়িতে তল্লাশি চালালে শিশুদের শোবার ঘরের বালিশের নিচে একটি অত্যন্ত বিষধর ‘ক্যাটল সাপ’ বা কালাচ পাওয়া যায়। বর্তমানে আলজোর বড় ভাই আনোজ একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
সচেতনতার অভাব ও পরিবেশগত কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শীতল আশ্রয়ের খোঁজে সাপ প্রায়ই মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। কালাচ সাপের কামড়ে অনেক সময় তীব্র জ্বালা বা ফোলা অনুভূত হয় না, ফলে ঘুমের ঘোরে মানুষ বুঝতে পারে না যে সে আক্রান্ত হয়েছে। সাধারণ পেটে ব্যথা বা বমিভাবকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে না যাওয়ার ফলেই কেরালায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
এক ঝলকে
- কেরালার ত্রিশূরে সাপের কামড়ে ৮ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন অপর ভাই।
- পেটে ব্যথাকে সাধারণ ফুড পয়জনিং মনে করে অবহেলা করেছিল পরিবার।
- শিশুদের শোবার ঘরের বালিশের নিচে পাওয়া গেছে বিষধর কালাচ সাপ।
- ভোরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।