লাঠি নয়, কথা বলুন! ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর পুলিশি তান্ডবে গর্জে উঠলেন রাহুল
বার্তা ডেস্কঃ
নিজস্ব প্রতিনিধি: নিয়োগ দুর্নীতি ও পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে টানা ১৭ দিন ধরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। সোমবার আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের বিধানসভা অভিযানকে ঘিরে রাঁচির রাজপথ রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই বিক্ষোভকারীদের হঠাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েকজন পড়ুয়াকে। নিজের শরিক দলের (JMM) সরকারের এই পুলিশি দমনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
ঝাড়খণ্ডে JMM-এর সঙ্গে জোট সরকারে রয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু নিজের সরকারের রাজত্বেই পড়ুয়াদের ওপর এমন বলপ্রয়োগ মেনে নিতে পারেননি রাহুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন:
“শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সব পড়ুয়ার রয়েছে। লাঠি দিয়ে নয়, সমস্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত আলোচনার মাধ্যমে। ঝাড়খণ্ড সরকারের অবিলম্বে পড়ুয়াদের সাথে টেবিলে বসে দ্রুত এই জট খোলা উচিত।”
উত্তাল রাঁচির রাজপথ:
রাজ্য সরকার দাবি করেছে তারা আন্দোলনকারীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছে, কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দাবিতে অনড়। সোমবার তেরঙা হাতে পুরনো বিধানসভা ভবনের সামনে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তির কাছে জড়ো হন হাজার হাজার ছাত্র। সেখান থেকে বিধানসভার দিকে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
দিল্লিতেও মোদী-শাহকে তোপ:
শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, দিল্লির ঘটনা নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করতে ছাড়েননি রাহুল গান্ধী। রাজধানীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে তিনি প্রশ্ন দাগেন, “কার নির্দেশে দিল্লি পুলিশ পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচালালো? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বর্বরতার জবাব দিতেই হবে।”
সব মিলিয়ে, রাঁচি থেকে দিল্লি—চাকরিপ্রার্থীদের এই আন্দোলন এখন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।