অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল কেন? জেনে নিন আসল কারণ!

বার্তা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’ নিয়ে আবেদনকারীদের জন্য এসেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক আপডেট। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আবেদন যাচাই বা স্ক্রুটিনি পর্বে ইতোমধ্যেই প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল (Rejected) করা হয়েছে। ফলে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাসে যদি ‘Rejected’ দেখায়, তবে ঠিক কী কারণে আপনার আবেদন বাতিল হলো এবং কীভাবে তা সংশোধন করবেন, তা অবিলম্বে জেনে নেওয়া জরুরি।

প্রকল্পের নিয়ম ও বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের মে মাসে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তন ঘটিয়ে ১ জুন ২০২৬ থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’ চালু করে। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা (বছরে ৩৬,০০০ টাকা) সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT)-এর মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। ৩ জুন প্রথম দফায় ২৮ লক্ষ এবং ১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় প্রায় ১.৩ কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হলেও, সাম্প্রতিক যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রচুর আবেদন আটকে যাওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
  • আবেদনকারীকে অ-আয়করদাতা হতে হবে।
  • পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি চাকরি বা পেনশন পান—এমন পরিবার এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।
  • আবেদনকারীর নিজস্ব নামে একটি সক্রিয় ‘সিঙ্গল-হোল্ডার’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং তাতে আধার সিডিং (Aadhaar Seeding) বাধ্যতামূলক।

যে ৫টি প্রধান কারণে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে:

১. নাগরিকত্ব বা বাসস্থানের প্রমাণে অসংগতি: স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও নথিপত্রে ভুল বা স্পষ্ট প্রমাণের অভাবে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ২. ভোটার তালিকা (SIR) থেকে নাম বাদ পড়া: ভোটার তালিকার বিশেষ রিভিশনের (SIR) সময় যদি নাম বাদ পড়ে থাকে (অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে), তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্বয়ংক্রিয় স্থানান্তরে বাধা আসবে। ৩. পরিবারে সরকারি চাকরি বা পেনশন থাকা: পরিবারের কেউ সরকারি বেতন বা পেনশন পেয়ে থাকলে পুরো পরিবারই এই যোগ্যতার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। ৪. আয়কর রিটার্ন দাখিল করা: আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য আয়কর বা আইটিআর (ITR) ফাইল করে থাকলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। ৫. আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যে ভুল: নাম, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা আইএফএসসি (IFSC) কোডে কোনো সামান্য টাইপো বা অমিল থাকলেও সিস্টেম আবেদন বাতিল করে দিচ্ছে।

আবেদন ‘Rejected’ হলে বা ভুল থাকলে করণীয়: যদি নাগরিকত্ব বা নথিতে কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, তবে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে:

  • গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে: স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসে।
  • শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে: এসডিও (SDO) অফিসে।

প্রয়োজনীয় নথি: Temporary Application ID, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের প্রমাণপত্র এবং ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি।

মনে রাখবেন—আবেদনের শেষ তারিখ: অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন আবেদন জমা দেওয়া বা ভুল সংশোধনের শেষ সময়সীমা হলো ২৫ অগস্ট ২০২৬। এই তারিখ পেরিয়ে গেলে বর্তমান সাইকেলে আর কোনো সংশোধন বা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই দ্রুত স্ট্যাটাস চেক করে প্রশাসনিক দফতরে যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *