রাতে লুকিয়ে ঢোকা! মহুয়ার বিরুদ্ধে তোপ দেগে বড় পদক্ষেপ বিজেপির?
বার্তা ডেস্কঃ
স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে নদিয়ার কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে হেনস্থা ও ঘর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ওঠেন। সাংসদ হিসেবে আগেও একাধিকবার তিনি সেখানে থেকেছেন এবং নিয়ম মেনেই তাঁকে ঘর দেওয়া হয়েছিল। রাতে খাবার খাওয়ার পর, রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) তাঁকে ফোন করে অবিলম্বে ঘরটি খালি করে দিতে বলেন। পরবর্তীতে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে জেলা প্রশাসনের তরফে হোয়াটসঅ্যাপে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয় ‘বার্ষিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান’-এর কারণে বুকিং বাতিল করা হয়েছে।
মহুয়ার প্রশ্ন, “যদি বুকিং বাতিলের নির্দেশ আগেই থাকত, তবে রাত ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলো কেন?” তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে প্রশাসন তাঁকে রাতে ঘর ছাড়তে বলছে, অন্যদিকে সার্কিট হাউসের ঠিক বাইরে কৃষ্ণনগর ১ নম্বর মণ্ডলের যুবমোর্চা নেতা রাজু রক্ষিতের নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের বাংলোর ঠিক উল্টোদিকে এই ধরনের বিক্ষোভ সত্ত্বেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তাঁর দাবি।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গভীর রাতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন মহুয়া। সেখানে তিনি মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অগ্রাধিকার তালিকায় সাংসদেরা ২১ নম্বরে রয়েছেন, যা কোনো রাজ্যের মুখ্যসচিবের থেকেও ওপরে। এ বিষয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, কৃষ্ণনগরের সাংসদ জানান, সোমবার তিনি লোকসভায় ‘প্রিভিলেজ মোশন’ আনছেন এবং কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।
এদিকে, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “একদিকে বিজেপি নেতারা মঞ্চে উঠে নারীশক্তির উদযাপনের কথা বলবেন, আর অন্যদিকে রাতে একজন মহিলা সাংসদকে ভয় দেখানোর জন্য রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার করবেন—এটা চলতে পারে না। এটি সরকারের তীব্র নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।”