বিদেশের গোপন সম্পত্তি বৈধ করার সুযোগ! জেনে নিন করের নিয়ম ও খুঁটিনাটি
বার্তা ডেস্কঃ
বিদেশে থাকা সম্পত্তি বা আয়ের হিসেব আয়কর রিটার্নে (ITR) জমা দেননি? এমন ছোট করদাতাদের জন্য এককালীন বিশেষ সুযোগ নিয়ে এলো কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে ‘Foreign Assets of Small Taxpayers Disclosure Scheme, 2026’। এই স্কিমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিদেশে থাকা গোপন সম্পত্তি বা আয়ের সঠিক তথ্য ঘোষণা করা যাবে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য করদাতাদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর মেটাতে হতে পারে।
কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন?
এই স্কিমে আবেদন করতে পারবেন ভারতের Resident, Non-Resident এবং Resident but Not Ordinarily Resident (RNOR) শ্রেণির করদাতারা। এর আগে যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেননি বা রিটার্নে ভুলবশত বিদেশি আয়ের হিসেব বাদ পড়েছে, তারাও এই স্কিমের সুযোগ নিয়ে নিজেদের তথ্য আপডেট করতে পারবেন।
করের হিসাব ও নিয়মাবলি:
এই স্কিমে দুটি আলাদা নিয়মে কর ও ফি ধার্য করা হয়েছে:
- প্রথম ক্ষেত্র (অপ্রদর্শিত আয়/সম্পত্তি): যে সমস্ত বিদেশি সম্পত্তি বা আয়ের ওপর আগে কর দেওয়া হয়নি এবং যার মোট মূল্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত (৩১ মার্চ ২০২৬ হিসেবে), তা ঘোষণা করা যাবে। এক্ষেত্রে ৩০% আয়কর এবং তার সাথে সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৩০% অতিরিক্ত চার্জ—মোট ৬০% কার্যকর কর দিতে হবে।
- দ্বিতীয় ক্ষেত্র (কর দেওয়া কিন্তু রিটার্নে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি): যেসব বিদেশি সম্পত্তির ওপর আগে কর দেওয়া হয়েছে অথবা যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রবাসী (Non-Resident) ছিলেন তখন কেনা হয়েছিল, কিন্তু রিটার্নের সঠিক ফর্ম বা শিডিউলে তা জানানো হয়নি—এমন ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ঘোষণা করা যাবে। এর জন্য কোনো শতাংশের হিসেবে কর নয়, দিতে হবে ১ লক্ষ টাকা স্থির ফি (Fixed Fee)। তবে ৫ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই ছাড় মিলবে না।
আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া:
- অনলাইন আবেদন: আয়কর দপ্তরের পোর্টালে Form 1 জমা দিয়ে তথ্য জানাতে হবে।
- গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ১৬ অগস্ট ২০২৬ থেকে এবং আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬।
- টাকা জমা দেওয়া: জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর আয়কর বিভাগ Form 2 জারি করবে, যেখানে দেনা টাকার অঙ্ক উল্লেখ থাকবে। সেই টাকা মেটানোর জন্য সাধারণত দুই মাস সময় পাওয়া যাবে।
আইনি সুরক্ষা:
সঠিক তথ্য জানিয়ে নির্ধারিত কর বা ফি পরিশোধ করলে ‘Black Money Act, 2015’-এর অধীনে ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ, জরিমানা এবং মামলা (Prosecution) থেকে রেহাই মিলবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বা যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত/অ্যাসেসমেন্ট শেষ হয়ে গেছে, সেসব ক্ষেত্রে এই সুযোগ প্রযোজ্য হবে না।