শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে আজই হাই কোর্টের মেগা রায়!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদটি শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূলের, নাকি বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের? এই হাইপ্রোফাইল ও নজিরবিহীন মামলার নিষ্পত্তি হতে চলেছে আজই। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে।
উল্লেখ্য, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু সংখ্যাধিক্যের যুক্তি দেখিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং অধিবেশনগুলোতে তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল। তবে স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত কি আদালত বহাল রাখবে, নাকি জয় হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের—সেদিকেই এখন নজর পুরো রাজ্য রাজনীতির।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিজ্ঞ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করে গত ৯ মে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠান। তবে এর পরেই তৈরি হয় নতুন জটিলতা। তৃণমূলের মোট ৬৫ জন বিধায়ক কালীঘাট নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন এবং নিজেদের সংখ্যাধিক্য দেখিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানান।
পরবর্তীতে কালীঘাট শিবির থেকে বিদ্রোহী বিধায়কদের দল থেকে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা সত্ত্বেও, অভিযোগ ওঠে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি উপেক্ষা করে স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে অনুমোদন দেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতের প্রশ্ন ও রায় স্থগিত: মামলার শুনানি চলাকালীন হাই কোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় স্পিকার ও ঋতব্রত শিবিরকে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের এতো গুরুত্ব দেওয়া হলো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম চিঠিটি কেন অগ্রাহ্য করা হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে গত এক মাস ধরে রায়দান সংরক্ষিত রেখেছিলেন বিচারপতি শম্পা সরকার, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে চলেছে আজ।