মুর্শিদাবাদে ফের অধীর-ঝড়! তৃণমূলের সমর্থনে পঞ্চায়েত সমিতি দখল কংগ্রেসের
বার্তা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন পর মুর্শিদাবাদ জেলায় ফের কোনো পঞ্চায়েত সমিতিতে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সহায়তায় ৩৮ আসনবিশিষ্ট বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে এই ক্ষমতার রদবদল ঘটেছে। অনাস্থা ভোটে নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজমা খাতুন। পঞ্চায়েত সমিতিতে এই পরিবর্তনের পর নবনির্বাচিত সভাপতিসহ তৃণমূলের বিজয়ী ‘বিক্ষুব্ধ’ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে নাজমা খাতুনের পক্ষে ভোট দেন তৃণমূলের ১৮ জন এবং কংগ্রেসের ৭ জন সদস্য। বাকি সদস্যরা ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৫ জুলাই, যখন বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা প্রাক্তন সভাপতি সুলতানা খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। তবে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ ও নির্দেশ পাওয়ার পরেই এই ভোটাভুটি সম্ভব হয়। যৌথভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস ও তৃণমূল সদস্যরা আদালতের কাছ থেকে ভোটাভুটির এবং নিরাপত্তার নির্দেশ আদায় করেন।
বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য তন্ময় কুমার ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাক্তন সভাপতি সুলতানা খাতুনের আমলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল এবং সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি জানান, নাজমা খাতুন বর্তমানে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হলেও শীঘ্রই তারা সকলে কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন। নবনির্বাচিত সভাপতি নাজমা খাতুনও জানান, সব সদস্যদের মতামত নিয়ে তারা আগামী দিনে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পথেই হাঁটবেন।
দীর্ঘদিন পর জেলায় পঞ্চায়েত সমিতি ফেরত পাওয়ায় উছ্বসিত কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, বহু বাধা-বিপত্তি ও আইনি লড়াই পার করে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমিতি দখল করেছে। সমিতি পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কাছে কোনো রূপ বৈষম্য না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।