হালিশহর লকআপে মৃত্যু, দোষীদের শাস্তির দাবিতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ!
বার্তা ডেস্কঃ
হালিশহর থানার লকআপে কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তৃণমূলকর্মী বিরজু কুমারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ৬ আগস্ট পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানায় নিয়ে যায়। এর দুই দিন পর, ৮ আগস্ট থানার লকআপ থেকেই বিরজুকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশি হেফাজতেই তাঁর ওপর নৃশংস শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে বাসিন্দাদের একাংশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়।
পরের দিন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে নিহতের বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পূর্ণ আশ্বাস দেন।
নিহতের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যেই হালিশহর থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি)-কে ক্লোজ করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী আধিকারিককে (আইও) সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।