কোর্টকে বোকা ভাবার সাহস করবেন না! সেন্সাস মামলায় রাজ্য-কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে শিক্ষকদের সেন্সাসের (জনগণনা) কাজে যুক্ত করা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা কাটছেই না। এই সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গত ৩ অগস্ট প্রকাশিত নির্দেশিকাটি বুধবার প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য সরকার। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, স্কুল ছুটির পর এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শিক্ষকদের সেন্সাসের কাজ করতে হবে।
এর পর বুধবার শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তার তরফে জারি করা এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়— রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যেন সেনসাসের কাজে শিক্ষকদের এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে পঠন-পাঠন ও ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি না হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, পঠন-পাঠনের পরিবেশ বজায় রেখে বাস্তবে কীভাবে এই জনগণনার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব?
এই বিষয়ে শিক্ষকদের একাংশ আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের চরম অভাব দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। ক্ষুব্ধ বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কেবল একটা জিনিস স্পষ্ট শুনতে চাই— শিক্ষকরা সেনসাসের কাজ করবেন, নাকি স্কুলে পড়াবেন? কর্তৃপক্ষ কোনটা চান, তা স্পষ্ট করে জানান।” কেন্দ্রীয় সরকারের সেনসাস কর্তৃপক্ষ তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারপতি জানিয়ে দেন, আদালতের পক্ষ থেকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে। প্রসঙ্গত, অন্য একটি মামলায় ডিএলএড (D.El.Ed) প্রশিক্ষণরতদের সেনসাসের কাজ থেকে ইতিমধ্যেই অব্যাহতি দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারকেই বিষয়টি সমাধানের সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, “আদালত দুই সরকারকে সময় দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কেউ কিছু করেনি। সরকারি আইনজীবীরা কী কাজ করছেন বা কী নির্দেশ আনছেন, তা তাঁদের নিজেদের কাছেই পরিষ্কার নয়। তাঁরা নিজেরা না বুঝলে অফিসারদের সঠিক পরামর্শ দেবেন কীভাবে?”
আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি আরও বলেন, “কোর্টকে বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনারা এমন নির্দেশ নিয়ে আসছেন যা অস্পষ্ট এবং গোলমেলে। রাজ্য ও কেন্দ্রের দু’রকম নির্দেশ কেন থাকবে? রাজ্য এখন যে অবস্থান নিচ্ছে, তাতে একই সময়ে শিক্ষকদের যেকোনো একটি কাজ বেছে নিতে হবে— হয় স্কুলে পড়াতে হবে, না হয় সেন্সাস করতে যেতে হবে।”
অন্য দিকে, শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশিকায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ’-এর সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী জানান, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিক্ষকদের সেন্সাসের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বা কাজ করলে নির্দিষ্ট দিনগুলিতে ‘অন ডিউটি’ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও নতুন নির্দেশিকায় সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে কাজের দিনগুলোতে ‘অন ডিউটি’ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।