নিউ দিঘা থেকে তারাপীঠ, হোটেলগুলোতে এবার পুলিশের কড়া নজর!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ঘটনার রাতেই হোটেলের এক কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র। তবে ওই ফোনালাপের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। আগুন লাগার কারণ তিনি আগে থেকে জানতেন কি না বা ফোনালাপের পর কেন গা ঢাকা দিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আইনি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীরেশ্বরবাবু এই হোটেলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করে লিজ দিয়েছিলেন—একটি অংশ মাসে ৪০ হাজার টাকার চুক্তিতে জাফরের স্ত্রীর নামে এবং অন্য অংশটি উমেশ ও জিতেন্দ্র সিং নামে দুই ব্যক্তির অধীনে পরিচালিত হতো। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

তদন্তের পরিধি ও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

  • দিঘা-মন্দারমনিতে নজরদারি: বীরেশ্বর মিত্রের মালিকানায় পূর্ব মেদিনীপুরের নিউ দিঘা ও মন্দারমনিতে থাকা দুটি হোটেলের ফায়ার লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার জন্য লালবাজারের তরফে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
  • কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে নজরদারি: মর্মান্তিক এই আগুনে বাংলাদেশের ৭ জন পর্যটক সহ একাধিক বিদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
  • ২৬টি হোটেলকে শোকজ: গত দুই দিনে কলকাতার ২৬টি হোটেলকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছে দমকল বিভাগ। নিয়ম না মানলে হোটেল সিল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, বেআইনিভাবে হোটেল চালিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *