‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, কংগ্রেসকে বেনজির আক্রমণ বিজেপির!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজনৈতিক স্বার্থ বা তোষণের রাজনীতির খাতিরে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদাহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না— শনিবার ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে কংগ্রেসকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হলো। একইসঙ্গে বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে এর অবদান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে দেশব্যাপী এক বিরাট সচেতনতামূলক প্রচার কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করেছে পদ্মশিবির।
শনিবার বিজেপির নবনিযুক্ত পদাধিকারীদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। ওই বৈঠকেই বন্দে মাতরমের অবমাননার বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (টুইটার) এই প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরে কংগ্রেসের নীতির কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
বিতর্কের মূল কারণ: ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ আগস্ট। সেদিন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ১৯৩৭ সালের একটি পুরোনো প্রস্তাবকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয় যে, দলের যেকোনো কর্মসূচিতে বন্দে মাতরম গানের ৬টি স্তবকের বদলে শুধুমাত্র প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে। এই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক ময়দানে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
নীতিন নবীন তাঁর বার্তায় স্পষ্ট জানান, সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক চাপ সৃষ্টি করতেই কংগ্রেস জাতীয় গানকে খর্ব করার চেষ্টা করছে। বিজেপি এই সিদ্ধান্তের “দৃঢ় নিন্দা এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বিরোধিতা” করছে। জাতীয় প্রতীক ও গানের সম্মানের বিষয়ে কোনো দলীয় স্বার্থের কাছে আপস করা হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
বিজেপির দেশব্যাপী মেগা প্ল্যান: জাতীয় গানটির প্রকৃত গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিজেপি দেশজুড়ে প্রচার চালাবে। এই কর্মসূচিতে বন্দে মাতরমের মূল ৬টি স্তবক, গানটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে এর ভূমিকা বিষদভাবে তুলে ধরা হবে। প্রচার কার্যে মহাত্মা গান্ধীর সেই ঐতিহাসিক উদ্ধৃতিটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে, যেখানে তিনি বন্দে মাতরমকে “বিশুদ্ধ জাতীয় অনুভূতির প্রতীক” এবং “সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম চালিকাশক্তি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বন্দে মাতরমের মতো আবেগঘন বিষয়কে সামনে রেখে বিজেপির এই সর্বভারতীয় প্রচার অভিযান আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।