কলকাতায় হোটেল-রেস্তরাঁর ওপর কড়া নজরদারি, ২৫টিকে শোকজ ও বন্ধের হুঁশিয়ারি!
বার্তা ডেস্কঃ
সম্প্রতি মধ্য কলকাতার একটি পাঁচতলা হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শহরের হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। নিরাপত্তা বজায় না রাখার অভিযোগে মধ্য কলকাতার ২৫টি হোটেল ও রেস্তরাঁকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুরসভা স্পষ্ট জানিয়েছে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা না নিলে এই প্রতিষ্ঠানগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একাধিকবার নোটিস ও সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেনি এই প্রতিষ্ঠানগুলি। তাই এবার চূড়ান্ত কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। কেন তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে না— তার লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিভিশনাল ফায়ার অফিসারদের উপস্থিতিতে একটি শুনানির আয়োজন করা হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ নিজেদের বক্তব্য জানাতে পারবেন। তবে শুনানি এবং অগ্নিনিরাপত্তার বাস্তবে রূপায়নের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ طے করা হবে।
ইতিমধ্যেই নবান্নের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বহুতল ভবনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ ‘ফায়ার অডিট’ শুরু হয়েছে। গত ২১ আগস্ট ১৬টি হোটেল-রেস্তরাঁ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরদিনই শুক্রবার আরও ১৩টি প্রতিষ্ঠান খালি করে দেয় প্রশাসন।
শহরের প্রতিটি বরোর জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি করে বিশেষ পরিদর্শনকারী দল। এই আধিকারিকরা বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয় সরাসরি গিয়ে খতিয়ে দেখছেন— অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ঠিক রয়েছে কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে বেরোনোর বিকল্প পথ খোলা আছে কি না এবং সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কেমন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মধ্য কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিট এলাকার একাধিক বন্ধ হোটেলে সারপ্রাইজ ভিজিট করেন নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা ছিনিমিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নিরাপত্তা বিধি না মানলে আগামী দিনে আরও কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। শহরের সবকটি হোটেল ও রেস্তরাঁয় যাত্রী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে।