প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশে নিরাপত্তা ঝুঁকি, ঝুপড়ি সরাতে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের!
বার্তা ডেস্কঃ
নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো আরও সুদৃঢ় করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল আদালত। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সংবেদনশীল বাসভবন এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত ভাই রাম ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প এবং ডিআইডি কলোনি—এই তিনটি বেআইনি ঝুপড়ি এলাকা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
তবে কেবল উচ্ছেদই নয়, বাসিন্দাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলিকে ‘সাবদা ঘেবরা’ এলাকায় যথাযথ পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করতে হবে।
উচ্চপর্যায়ের নজরদারি কমিটি গঠন প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। দিল্লির অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক মনমোহন শর্মার নেতৃত্বে গঠিত এই প্যানেলে নগরোন্নয়ন মন্ত্রক, DUSIB, DDA এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা থাকছেন।
আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, পুনর্বাসনের সময় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান এবং ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘সসম্মানে বাঁচার অধিকার’ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। সাবদা ঘেবরা এলাকায় পর্যাপ্ত স্কুল, বিদ্যুৎ, এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাই প্রধান অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রী বাসভবন, রেস ক্লাব, জয়পুর পোলো গ্রাউন্ড এবং সংলগ্ন বায়ুসেনা ঘাঁটির অতি-সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা বলয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এই ঝুপড়িগুলি গড়ে উঠেছিল। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্বেও এই বেআইনি নির্মাণগুলি সরানোর নোটিশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে সিঙ্গল বেঞ্চের উচ্ছেদ রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাসিন্দারা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলে, আদালত ৬ সপ্তাহের পুনর্বাসন শর্ত সাপেক্ষে উচ্ছেদের রায় বহাল রাখে। নির্ধারিত সময়ে এলাকা খালি না করা হলে পুলিশি সাহায্যে উচ্ছেদ চালানো হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আদালত।