৪ না ৫ সেপ্টেম্বর, ১৫ বছর পর কোন দিনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব?
বার্তা ডেস্কঃ
September 2, 202611:33 am
কলকাতা: শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের জন্য ২০২৬ সালের কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী অত্যন্ত বিশেষ হতে চলেছে। শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, এই বছর ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি এবং রোহিণী নক্ষত্রের এক বিরল মহাযোগ তৈরি হচ্ছে, যা প্রায় ১৫ বছর পর দেখা যাবে। সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঠিক এই বিশেষ তিথি ও নক্ষত্রের সংযোগেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই মথুরা-বৃন্দাবন সহ দেশজুড়ে এই বছর কৃষ্ণের জন্মোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা।
কবে ও কখন জন্মাষ্টমী? পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্রপদ কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টো ২৫ মিনিটে (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ২টো ২৭ মিনিটে)। এই তিথি বহাল থাকবে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত)। ধর্মীয় প্রথা ও উদয়া তিথির নিয়ম মেনে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) মথুরা-বৃন্দাবন সহ দেশের প্রায় সর্বত্রই উদযাপিত হবে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
১৫ বছর পর রোহিণী নক্ষত্রের দুর্লভ সংযোগ: অনেক সময় জন্মাষ্টমীর দিন অষ্টমী তিথি থাকলেও রোহিনী নক্ষত্রের সংযোগ পাওয়া যায় না। কিন্তু এই বছর ৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই অষ্টমী তিথির পাশাপাশি রোহিণী নক্ষত্রের শুভ সংযোগ ঘটছে। এই দুর্লভ তিথি-নক্ষত্রের মিলনের কারণেই ভক্তদের কাছে এই বছরের জন্মাষ্টমী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাতে পুজোর শুভ মুহূর্ত (নিশিত কাল): যেহেতু মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল, তাই জন্মাষ্টমীর দিন মধ্যরাতের ‘নিশিত কাল’ পুজোর জন্য সবচেয়ে শুভ। ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৬ মিনিট থেকে শুরু করে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত থাকবে পুজোর মূল সময়। এই সময়েই বাড়ি ও মন্দিরে মন্দিরে নাড়ুগোপালের স্নান, পঞ্চামৃত অভিষেক, নতুন পোশাক-অলঙ্কারে সাজানো এবং আরতি সম্পন্ন করা হবে।
পুজোর প্রথা ও নিয়মাবলী: জন্মাষ্টমীর দিন ভক্তরা দিনভর উপবাস রেখে পুজোর আয়োজন করেন। মধ্যরাতে ভগবান কৃষ্ণের জন্মলগ্নে শঙ্খ ও ঘণ্টার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। এরপর শ্রীকৃষ্ণকে মাখন-মিছরি, পঞ্চামৃত, ফল এবং নানা সাত্ত্বিক ভোগ নিবেদন করে ভক্তরা ব্রত ভঙ্গ করেন।