২২ লক্ষের চিকিৎসা বিল! আমেরিকান ড্রিম ভুলে ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত প্রবাসীর!

বার্তা ডেস্কঃ

ডলারে আয় আর ঝলমলে জীবনযাত্রার টানে প্রতি বছর অসংখ্য ভারতীয় ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর পেছনে ছোটেন। কিন্তু বিপদের দিনে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সেই স্বপ্নই কীভাবে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়, তার এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরলেন এক প্রবাসী ভারতীয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউভান ইবাভেজের নামের ওই যুবকের শেয়ার করা একটি ভিডিও সম্প্রতি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যা ভারত ও আমেরিকার চিকিৎসা খরচের বিপুল পার্থক্য আবার প্রকাশ্যে এনেছে।

আমেরিকায় বসবাসকারী ইউভান জানান, বাস্কেটবল খেলার সময় হঠাৎই তাঁর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। শরীর এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল যে হাঁটাচলা করাও আসাম্ভব ছিল। কিন্তু আমেরিকায় অ্যাম্বুলেন্সের আকাশছোঁয়া ভাড়ার ভয়ে তিনি অ্যাম্বুলেন্স না ডেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়েও নিস্তার ছিল না; প্রায় দেড় ঘণ্টা শুধু ফর্ম ও কাগজপত্রের ঝক্কি সামলানোর পর মিলল চিকিৎসকের দেখা। পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি মৃদু হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছিলেন।

আসল বড় ধাক্কাটি আসে হাসপাতাল ছাড়ার সময়। প্রতি মাসে মোটা অংকের প্রিমিয়াম দিয়ে সেরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিজস্ব পকেট থেকে গুনতে হয় প্রায় ৭ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা)। আর পুরো চিকিৎসার মোট বিল দাঁড়ায় ২৩ হাজার ডলার, যা প্রায় ২২ লক্ষ টাকার সমান!

এর ঠিক বিপরীত এক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ইউভান। ভারতে থাকার সময় তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারালে পরিজনেরা তাঁকে একটি প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত প্রাইভেট রুম মেলে এবং ইসিজি, এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো সমস্ত জরুরি পরীক্ষা মুহূর্তের মধ্যে হয়ে যায়। ভারতের সেই প্রিমিয়াম পরিষেবার মোট খরচ হয়েছিল মাত্র ৫০০ ডলার—অর্থাৎ প্রায় ৪৭ হাজার টাকা!

আমেরিকার এই জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পুণের সঙ্গে সংযোগ থাকা এই যুবক এখন পাকাপাকিভাবে ভারতে ফেরার কথা ভাবছেন। তাঁর মতে, পরিকাঠামো যতই উন্নত হোক না কেন, চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের পকেট খালি করায় মার্কিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জুড়ি নেই। ভিডিওটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল এবং প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর চিন্তার খোরাক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *