ইরানের বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলা, পাল্টা ড্রোনে কি শুরু হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

বার্তা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে বিয়ের আসরে রক্তগঙ্গা: পালটা মিসাইল হানায় অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য

ফের রক্তাক্ত পশ্চিম এশিয়া। দীর্ঘদিনের সুপ্ত সংঘাত পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ায় চরম উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহল। মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাক ও সিরিক অঞ্চলে আচমকা মার্কিন বিমান হানায় এক লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। ভয়াবহ এই হামলায় এক নিষ্পাপ শিশুসহ অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এই ঘটনার পরেই তেহরানের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড (IRGC)।

ইরানের পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান এব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়েছেন, এই নৃশংস হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, সাধারণ নাগরিক বা অসামরিক এলাকা তাদের লক্ষ্য ছিল না; হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি হামলার ছক বানচাল করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ। সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্পষ্ট হুঙ্কার—ইরান আবার আক্রমণ করলে তার পরিণতি আরও ভয়ংকর হবে।

মার্কিন হামলার জবাবে তেহরানও তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। জর্ডনের গাল্ফ অফ আকাবায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরান। জর্ডন ও কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি মিসাইল ও ড্রোন আকাশে ধ্বংস করলেও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন আঘাত এনেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। পাশাপাশি বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের বহু বেসামরিক ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো মার্কিন বোমাবর্ষণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘাত শুরুর পর কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও তা স্থায়ী হয়নি। মঙ্গলবারের এই রক্তক্ষয়ী হানার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য ফের বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে চড়চড় করে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অবিলম্বে এই যুদ্ধ না থামলে তা সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *