হিমালয়ে ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয়! নেপালে নিখোঁজ ৪ হাজার, বিশ্বকে সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর
বার্তা ডেস্কঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ: নেপালে বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৪,০০০, বিশ্বমঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর
কাটমান্ডু: হিমালয় কোলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ রূপ এবার প্রত্যক্ষ করল নেপাল। গত ২৬ আগস্টের ভোতেকোশী নদীর প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ভেসে গেছে একের পর এক লোকালয়। এতে ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং এ পর্যন্ত ১,১১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সাফ জানিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও প্রকৃতির এই তাণ্ডব মোকাবিলায় এখন সমস্ত দেশকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, হিমালয়ের উঁচুতে বিশাল বরফ ও পাথর ধসে পড়ার কারণেই এই আকস্মিক বিপর্যয়ের সূচনা। রাসুয়া জেলা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে নুওয়াকোট ও ধাডিং অঞ্চলেও বন্যা আছড়ে পড়ে। সরকার ইতিমধ্যেই ১৩,০০০-এর বেশি সেনা, পুলিশ ও উদ্ধারকারী সদস্য মোতায়েন করেছে। ১১,৯৯৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও ৩,৯১৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। গৃহহীনদের জন্য বিভিন্ন শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ধাক্কা খেয়েছে। আটটি চালু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও চারটি নির্মাণাধীন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া ৭৮টিরও বেশি ব্রিজ (মোটর চলার সেতু ও সাসপেনশন ব্রিজ) এবং প্রধান হাইওয়েগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস ও পরবর্তী পদক্ষেপ: ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা নেপালের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকার ১৫টি এলাকাকে তিন মাসের জন্য ‘সংকটপীড়িত অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু দ্রুত মেরামতের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
তবে সমস্ত আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদকেই মুখ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিমালয় অঞ্চলে এই দুর্যোগের মূল কারণ বিশ্বব্যাপী দূষণ ও উষ্ণায়ন; তাই এর দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই নিতে হবে।