১ টাকায় ৩,৯০৬ টাকার লাভ! স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ম্যাজিকে বদলে যাচ্ছে ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ
বার্তা ডেস্কঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের সুফল কতটা ব্যাপক হতে পারে, তা সম্প্রতি বিখ্যাত সাময়িকী ‘নেচার’ (Nature.com)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, আধুনিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তির (Health Technology) সঠিক প্রয়োগ শুধু অমূল্য জীবনই বাঁচায় না, দেশের অর্থনীতিতেও বিপুল অঙ্কের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভারত সরকারের ‘হেলথ টেকনোলজি অ্যাসেসমেন্ট ইন ইন্ডিয়া’ (HTAIn) প্রোগ্রামের অধীনে পরিচালিত এই সমীক্ষায় চারটি প্রধান স্বাস্থ্য প্রকল্পের ওপর নজর রাখা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তিতে প্রতি ১ টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগের বিপরীতে সমাজ ও জনস্বাস্থ্য খাতে গড়ে সর্বোচ্চ ৩,৯০৬ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ও সামাজিক মান (Value) তৈরি হয়েছে। অকাল মৃত্যু রোধ, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার খরচ কমে যাওয়ার বিষয়গুলোকে হিসাব করে এই রিটার্ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব প্রযুক্তিতে মিলেছে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন:
- পোর্টেবল ইসিজি মেশিন: আহমেদাবাদে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টেবল ইসিজি ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন পাওয়া গেছে। এখানে মাত্র ১ টাকা খরচের বিপরীতে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) দাঁড়িয়েছে ১:৩,৯০৬।
- TeCHO+ অ্যাপ: গুজরাটে গর্ভবতী নারী ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জটিলতা আগেভাগে শনাক্ত করার এই অ্যাপে ROI ছিল ১:৩০.৩।
- টিবি রোগীদের ডিজিটাল মনিটরিং (TMEAD): মহারাষ্ট্রে টিবি রোগীদের ঠিকমতো ওষুধ খাওয়া ট্র্যাকিংয়ের এই প্রযুক্তিতে ROI পাওয়া গেছে ১:২৫.১।
- আইভি আয়রন থেরাপি (IVIS): অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দূরীকরণের এই চিকিৎসায় খরচের তুলনায় রিটার্ন পাওয়া গেছে ১:৮.৫ অনুপাতে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই বিপুল রিটার্ন কোনো নগদ অর্থ বা সরাসরি পকেটে আসা টাকা নয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা উন্নত হওয়া এবং জীবন বাঁচানোর ফলে সমাজ ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, এটি তারই একটি আনুমানিক মূল্যায়ন। তা সত্ত্বেও, গবেষণাটি প্রমাণ করে দিল যে জনস্বাস্থ্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।