যাদবপুরে মাঝরাতে দেওয়াল মোছা নিয়ে তুলকালাম, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় ফুঁসছেন পড়ুয়ারা!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাঝরাতে দেওয়াললিখন মুছে দেওয়া ঘিরে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে দেওয়াল মোছার কাজ চলাকালীন পুরকর্মীদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে লালবাজার।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান কুণাল অগ্রবাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যাদবপুরে কোনও পুলিশকর্মী যাননি।” পুলিশ সূত্রের দাবি, পুরকর্মী এবং পুলিশ উভয়েই জ্যাকেট বা নির্দিষ্ট পোশাক ব্যবহার করায় ছাত্রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা ‘পোশাকের বিভ্রান্তি’ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

তবে লালবাজারের এই ‘পোশাক বিভ্রান্তি’র তত্ত্ব মানতে নারাজ আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। রেভলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের (RSF) যাদবপুর ইউনিটের সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় পাল্টা দাবি করে জানান, সে রাতে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের কাছে পুলিশের পরিচয়পত্র (ID card) ছিল এবং তাঁরা নিজেদের পুরকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বলেই পরিচয় দিয়েছিলেন। সত্য উন্মোচনের জন্য অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রনেতারা।

ইন্দ্রানুজের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে পুরকর্মীদের সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশ ভেতরে ঢোকে। ওই সময় হস্টেলের পড়ুয়াদের বাইরে বেরোতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী, দিনেও ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকতে হলে উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারের অনুমতি লাগে। তা হলে গভীর রাতে কার অনুমতিতে পুলিশ ঢুকল— সেই প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্ররা।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশে নতুন করে লেখা দেওয়াললিখন মোছার দায়িত্ব কলকাতা পুরসভা নিয়েছিল। কিন্তু পুরকর্মীদের সঙ্গে যে পুলিশও আসবে, তা তাঁর জানা ছিল না এবং পুলিশকে ঢোকার কোনও অনুমতিও তিনি দেননি। উপাচার্যের কথায়, পুলিশকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে নিষেধ করে লিখিত ই-মেল পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ক্যাম্পাসের কিছু দেওয়াললিখন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরব হওয়ার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম দফায় দেওয়ালগুলিতে সাদা প্রলেপ দেয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্ররা ফের কার্ল মার্ক্সের উক্তি ও বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেয়। মঙ্গলবার রাতে সেই স্লোগানগুলিই দ্বিতীয় দফায় মুছে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *