২৯০ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, কলকাতার ১১ জায়গায় ইডির মেগা তল্লাশি!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: তিলোত্তমা জুড়ে ফের ইডি-র জোর তৎপরতা। প্রায় ২৯০ কোটি টাকার বিশাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কলকাতা জোন-১-এর বিশেষ প্রতিনিধি দল। ‘কোহিনুর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপের মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঠিক কী অভিযোগ সংস্থার বিরুদ্ধে? সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডে একটি ৬৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির নাম করে দেশের একাধিক ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল কোহিনুর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজে টাকা ব্যবহার না করে, সেই ঋণের সিংহভাগ অর্থ বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থা ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
প্রতারণা ঢাকা দিতে পরবর্তীতে সংস্থাটি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে ‘ন্যাশনাল কো ম্পা নি ল ট্রাইব্যুনাল’ (NCLT)-এর শরণাপন্ন হয়। কিন্তু লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখান থেকে মাত্র ৭ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ফলে ঋণদাতা ব্যাঙ্ক ও পাওনাদাররা শত শত কোটি টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
ইডির স্ক্যানারে কারা? ব্যাঙ্ক জালিয়াতির এই মূল চক্রের জট খুলতে বৃহস্পতিবার ইডি আধিকারিকরা একযোগে হানা দেন কোহিনুর পাওয়ারের প্রোমোটার প্রশান্ত বোথরা ও বিজয় বোথরার বাসস্থান ও অফিসে। এ ছাড়া সংস্থার একাধিক ডিরেক্টর এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (অডিটর)-দের বাসস্থান ও সংস্থাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় চলছে এই অনুসন্ধান। তবে তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা নগদ উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইডির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পরপর দুই দিন শহরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপট: উল্লেখ্য, এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বুধবারও কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণির একটি বহুতলে হানা দিয়েছিল ইডি। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে দায়ের হওয়া একটি টোল প্লাজা দুর্নীতির মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের মোট ১৪টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও শহরের একাধিক জায়গায় ইডির ব্যাক-টু-ব্যাক হানায় কার্যতই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতি ও শিল্পমহলে।