‘কাঁদিস না ভাই, মা ফিরবে’, নেপালে নিখোঁজ মায়ের অপেক্ষায় দুই খুদে!
বার্তা ডেস্কঃ
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে গত এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। মানসরোবর দর্শনে গিয়ে এই বিপর্যয়ে পড়েন তিনি। মায়ের এই আচমকা অনুপস্থিতিতে থমকে গিয়েছে শুভ্রাংশু রায়ের পুরো সংসার। কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে এখন শুধুই অপেক্ষা, উদ্বেগ আর স্বজন হারানোর আশঙ্কার ঘন কালো ছায়া।
বাড়ির এমন চরম দুঃসময়ে ছোট ভাইয়ের কাছে পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে শুভ্রাংশুর ১৩-১৪ বছর বয়সি বড় মেয়ে। ৯-১০ বছরের ভাইটি যখন মায়ের জন্য ডুকরে কেঁদে ওঠে, তখন নিজের চোখের জল চেপে ভাইয়ের গালে হাত রেখে সান্ত্বনা দেয় দিদি— ‘কাঁদিস না ভাই, মা ঠিক চলে আসবে!’ কিন্তু ভাই সান্ত্বনা পেলেও দিনের শেষে বাবার কাছে এসে কেঁদে ফেলে সেই কিশোরী, প্রশ্ন করে— ‘মা কবে আসবে, বলো না?’ মেয়েকে আগলে ধরে বুক বাঁধেন পিতা শুভ্রাংশুও।
সংসার ও সন্তানদের মানসিক ভাবে আগলে রাখার পাশাপাশি শুভ্রাংশুকে এখন একা হাতে সামলাতে হচ্ছে ব্যবসায়িক কাজকর্ম। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের স্কুল পরিচালনা থেকে শুরু করে বাগমোড়ের পলিক্লিনিক— যা এতদিন দক্ষতার সঙ্গে দেখভাল করতেন শর্মিষ্ঠা, তা এখন শুভ্রাংশুর কাঁধে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি হলেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন তিনি।
গত ২১ অগস্ট কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। কিন্তু সেখানে হঠাৎ নামা হড়পা বানে ভেসে যায় বহু পর্যটক। তার পর থেকেই শর্মিষ্ঠা ও তাঁর সহযাত্রীদের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, নিখোঁজদের শনাক্তকরণে হাসপাতালে ডিএনএ (DNA) স্যাম্পল পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার ও পর্যটন সংস্থার তরফ থেকে সব রকম যোগাযোগের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো পৌঁছায়নি কোনো সদর্থক খবর। বিষাদগ্রস্ত শুভ্রাংশু কেবল একটি প্রার্থনাই করছেন— ‘আগে ও সুস্থভাবে ফিরে আসুক!’