কার সঙ্গে মিলবে, কার সঙ্গে শত্রুতা? মূলাঙ্কেই লুকিয়ে আপনার গোপন সঙ্গীর রহস্য!
September 5, 2026
বার্তা ডেস্কঃ
সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি মানুষের জন্মতারিখের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট ‘মূলাঙ্ক’ (১ থেকে ৯) নির্ধারিত হয়, যা কোনো না কোনো গ্রহ দ্বারা পরিচালিত। জ্যোতিষশাস্ত্রের মতো সংখ্যাতত্ত্বের জগতেও বিভিন্ন মূলাঙ্কের মধ্যে যেমন গভীর বন্ধুত্ব থাকে, তেমনই থাকে চরম বিরোধ। স্বভাবের মিল বা অমিলের কারণে কার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন হবে, তা মূলাঙ্ক দেখেই বুঝে নেওয়া সম্ভব।
এক নজরে দেখে নিন মূলাঙ্ক অনুযায়ী কার সঙ্গে আপনার বিরোধের সম্ভাবনা বেশি:
- মূলাঙ্ক ১ (অধিপতি: সূর্য): জন্মগতভাবেই এরা নেতা ও আত্মবিশ্বাসী। এদের সঙ্গে মূলাঙ্ক ৮ (শনি)-এর সংঘাতের আশঙ্কা বেশি, কারণ সূর্যের অহং ও শনির কঠোর নিয়মকানুনের মধ্যে সহজে মিল হয় না।
- মূলাঙ্ক ২ (অধিপতি: চন্দ্র): এরা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আবেগপ্রবণ। মূলাঙ্ক ৪-এর অতি-বাস্তববাদ, ৮-এর কঠোর স্বভাব এবং ৯-এর উগ্রতার কারণে এদের সাথে বিরোধ তৈরি হতে পারে।
- মূলাঙ্ক ৩ (অধিপতি: বৃহস্পতি): জ্ঞান ও শৃঙ্খলা এদের প্রধান অস্ত্র। তবে মূলাঙ্ক ৬-এর আনন্দপ্রিয় ও ভোগ-বিলাসী মানসিকতার সঙ্গে এদের ভাবনার অমিল দেখা দেয়।
- মূলাঙ্ক ৪ (অধিপতি: রাহু): প্রচলিত নিয়ম ভেঙে স্বাধীনভাবে বাঁচতে ভালোবাসেন এরা। ফলে মূলাঙ্ক ২-এর অতিরিক্ত আবেগ এবং ৯-এর উগ্র স্বভাবের সঙ্গে এদের প্রায়ই ঘাত-প্রতিঘাত হয়।
- মূলাঙ্ক ৫ (অধিপতি: বুধ): চতুর ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতায় সেরা। এরা যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে বলে এদের নির্দিষ্ট কোনো ‘শত্রু মূলাঙ্ক’ নেই।
- মূলাঙ্ক ৬ (অধিপতি: শুক্র): প্রেম, সৌন্দর্য ও আরাম-আয়েস পছন্দ করেন। মূলাঙ্ক ৩-এর নিয়মবদ্ধ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাত্রার সঙ্গে এদের অমিল হওয়া স্বাভাবিক।
- মূলাঙ্ক ৭ (অধিপতি: কেতু): আধ্যাত্মিক ও গভীর চিন্তাভাবনার অধিকারী। সরাসরি শত্রু না থাকলেও অতিরিক্ত বস্তুবাদী মানুষের সঙ্গে এরা দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।
- মূলাঙ্ক ৮ (অধিপতি: শনি): অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল। মূলাঙ্ক ১-এর কর্তৃত্ব ফলানোর স্বভাব, ২-এর অতি-আবেগ এবং ৪-এর নিয়ম ভাঙার ঝোঁক এদের সহ্য হয় না।
- মূলাঙ্ক ৯ (অধিপতি: মঙ্গল): সাহসী, উদ্যমী ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করে। মূলাঙ্ক ২-এর ভাবাবেগ এবং ৪-এর প্রথাভাঙা চিন্তা এদের সঙ্গে সহজে খাপ খায় না।
সংখ্যাতত্ত্ব মতে, ‘শত্রু মূলাঙ্ক’ মানেই যে সম্পর্ক টিকবে না, তা নয়। চিন্তাভাবনা ও কাজের ধরনের পার্থক্যের কারণে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে মাত্র। পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও সঠিক বোঝাপড়া থাকলে যেকোনো বিপরীত স্বভাবের মানুষের সঙ্গেও সেরা সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।