বাংলাদেশে বসে আল কায়েদার ছক, নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে মরিয়া এনআইএ!

বার্তা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে আল কায়েদার (AQIS) ‘সুপ্ত’ বা স্লিপার সেল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে বড়সড় তদন্তে নামল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ২০২২ সালে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর করা একটি মামলার সূত্র ধরে সম্প্রতি দুটি নতুন এফআইআর দায়ের করেছে এনআইএ। এই পুরো চক্রান্তের মূলে রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার অন্যতম শীর্ষনেতা আবু তালহা ওরফে ইক্রামুল হক, যিনি ওপার বাংলায় বসে এপারে জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করার কলকাঠি নাড়ছেন বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

জাল নথিতে ঘাঁটি ও ‘স্লিপার সেল’ বিস্তার গোয়েন্দা তথ্যে প্রকাশ, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আল কায়েদার ‘দাওয়া’ বা সংগঠন বিস্তারের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি নাগরিক ইক্রামুল পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে নেটওয়ার্ক ছড়ানোর কাজ করেন। দিনহাটার এক বৃদ্ধ দম্পতিকে ভুয়ো বাবা-মা বানিয়ে ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করে এ রাজ্যে ঘাঁটি গেড়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে সস্ত্রীক বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে তিনি রাজ্যে একাধিক স্লিপার সেল তৈরি করেন। এনআইএ-র নতুন মামলায় ইক্রামুল ছাড়াও আমিরুদ্দিন আনসারি, সিদ্দিকী আলি, জাবারুদ্দিন আলি, আব্দুল রাকিব সরকার এবং কাজি আহসান উল্লাহর মতো একাধিক অভিযুক্তের নাম রয়েছে, যাঁদের পুরুলিয়া, ডোমজুড়, ডায়মন্ড হারবার, শাসন ও পঞ্চান্নগ্রামের মতো এলাকা থেকে আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

হাসিনার পতনের পর নতুন উদ্বেগ ইক্রামুল ২০২৩ সালে বাংলাদেশে গ্রেফতার হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামিনে মুক্ত হন। এনআইএ-র আশঙ্কা, জেল থেকে বেরিয়ে তিনি ফের এ রাজ্যের পুরোনো নেটওয়ার্কগুলোকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। এনআইএ আরও জানিয়েছে, আল কায়েদা ‘আনসারউল্লা বাংলা টিম’-কে সামনে রেখে ভারতীয় যুবকদের মগজধোলাই ও রিক্রুটমেন্টের কাজ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সতর্কতা ও এনআইএ-র পদক্ষেপ সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের এক রিপোর্টে ভারত ও বাংলাদেশে আল কায়েদার ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল কায়েদা নতুন সেল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইক্রামুলের হাতে তৈরি পশ্চিমবঙ্গের আল কায়েদা মডিউলগুলো কতটা সক্রিয়, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের মূল উপড়ে ফেলতে চাইছে এনআইএ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *