যন্তর মন্তরে হামলা করেও শেষরক্ষা হলো না, পুলিশের জালে বিতর্কিত স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ!

বার্তা ডেস্কঃ

ডাক্তারি প্রবেশিকা (NEET) প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লির যন্তর মন্তর। সেখানে আন্দোলনরত ছাত্র ও বিভিন্ন সংগঠনের ওপর হামলা এবং সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার তথা স্বঘোষিত গোরক্ষক স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে তাঁকে আটক করার পর শনিবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর গ্রেফতারির কথা স্বীকার করেছে। শনিবারই দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে একদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

কী অভিযোগ ছিল স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে? ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন আন্দোলনকারীদের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই সগর্বে দাবি করেন যে, আন্দোলনকারী ছাত্র নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকি, এত কিছু করার পরও পুলিশ বা প্রশাসন তাঁর কিছুই করতে পারবে না বলে প্রকাশ্যে অহংকারও প্রকাশ করেন।

যেভাবে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত: ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেয়। তদন্ত শুরু হতেই বাইকে চেপে উত্তরপ্রদেশের দিকে পালিয়ে যান স্বতন্ত্র। শেষমেশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ টিম বুলন্দশহরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেফতার করে।

রাজনৈতিক শোরগোল ও স্বস্তি: অভিযুক্তের অবলিম্বে গ্রেফতারির দাবিতে সিজেপি-র কর্মী-সমর্থকেরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই প্রতিবাদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন কংগ্রেসের যুব নেতৃত্ব, নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব এবং আজাদ সমাজ পার্টির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। চারদিকের তীব্র চাপের মুখে পুলিশি পদক্ষেপে শেষমেশ অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় আপাতত স্বস্তির হাওয়া আন্দোলনকারীদের মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *