নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যা! শোকের ছায়ায় দেশ, উদ্ধারকাজে পাশে ভারত
বার্তা ডেস্কঃ
নেপালের প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩৫৫ জনে। দেশের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (NDRRMA) এই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ২৬ আগস্টের এই মর্মান্তিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণে সোমবার নেপাল জুড়ে জাতীয় শোক পালন করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সমস্ত সরকারি দপ্তর এবং বিদেশের নেপালি দূতাবাসগুলিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কাজ ভোটকোশী নদীর বিধ্বংসী বন্যায় রাসুয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ত্রিশূলী নদীসংলগ্ন নুওয়াকোট ও ধাডিং এলাকাতেও।
উদ্ধার অভিযানে নেমেছে নেপালি সেনা, নেপাল পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স (APF)। যৌথ অভিযানে আকাশ ও স্থলপথে এ পর্যন্ত ১৩,৩৯১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাত্তার ও ধুনচেতে সেনার ৯,২৮৭ জন কর্মী কাজ করছেন এবং দেবীঘাটে অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই দুর্যোগে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে অন্তত ৮২ জন নিরাপত্তাকর্মী (৪৫ জন সেনা, ২৫ জন পুলিশ ও ১২ জন APF সদস্য) নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার জলে জেলবন্দিদের রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার জাতীয় শোকের আগে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, নুওয়াকোটের বিদুর-৬-এর খাম্পা ক্যাম্প সেন্ট্রাল জেলের প্রশাসনিক ভবন ও আবাসন জলে ভেসে যায়। জীবন বাজি রেখে নেপাল পুলিশ ও APF-এর ৫২ জন কর্মী ৯২৩ জন বন্দিকে নিরাপদ উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে ৫০ জন বন্দি পাঁচিল ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। বহু পুলিশকর্মী এতে আহত হলেও চরম প্রতিকূলতায় জেলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে সিল্কিয়ারা-খ্যাত আর্নল্ড ডিক্স ভারতের সিল্কিয়ারা টানেল দুর্ঘটনায় ৪১ জন শ্রমিককে বাঁচানো আন্তর্জাতিক টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স নেপালের উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে নিজের কর্মজীবনের “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ” হিসেবে উল্লেখ করে ডিক্স জানান, সিল্কিয়ারায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়েছিল, কিন্তু ভোটকোশীর আশপাশে একই সঙ্গে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বহু মানুষকে বাঁচানোর লড়াই চালাতে হচ্ছে।
ভারতের প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক সাহায্য দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে ভারত সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, চিলিমে টানেল পরিষ্কারের কাজ করছে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের দল এবং ভারী সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য ১ কিমি দীর্ঘ অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, কাঠমান্ডুর গবেষণাগারে ৪০০-র বেশি নমুনা পরীক্ষা করে প্রায় ৭০টি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করেছে ভারতের বিশেষ ফরেনসিক দল।
সাংবাদিকদের ওপর নতুন নিয়ম ও গোর্খায় তরকা বান পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে নেপাল সরকার। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ (DoIB) থেকে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন ও বিশেষ পরিচয়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গোর্খা জেলার থেরাং নদীতে নতুন করে হড়পা বানের ফলে বুধিগণ্ডকী নদীর অববাহিকায় চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই বন্যায় চারটি বাড়ি ও একটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে যাওয়ায় মানাসলু অঞ্চলে ট্রেকিং করতে আসা পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।