দুর্গার ১১ হাত নিয়ে তীব্র বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু!
বার্তা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজোর সরকারি বিজ্ঞাপনে দেবী দুর্গার ছবি ঘিরে তৈরি হলো চরম বিতর্ক। দশভুজা দেবীকে ‘একাদশভুজা’ বা ১১ হাত বিশিষ্ট হিসেবে চিত্রায়িত করার অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে বিভিন্ন সংবাদপত্রে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ‘প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক’-এর একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেই বিজ্ঞাপনের একদম উপরে দেবী দুর্গার একটি ছবি ছিল, যেখানে দেখা যায় দেবীর ১০টির বদলে ১১টি হাত রয়েছে। বিজ্ঞাপনের এক পাশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অন্য পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ছিল। ছবিটি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের ঝড় ওঠে।
সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকের শুরুতেই এই প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজকের একটা ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।” তিনি আরও জানান, বিজ্ঞাপনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ও সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকার এই ধরনের বিষয়ে আরও যত্নবান ও সতর্ক থাকবে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপি-কে বিঁধতে ছাড়েনি বিরোধীরা। সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ছবি পোস্ট করে তোপ দাগেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। প্রশ্ন তোলেন, কোন শাস্ত্র অনুসারে ২০২৬ সালে এসে দশভুজা দেবী ‘একাদশভুজা’ হয়ে গেলেন! অন্যদিকে, কটাক্ষ করে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ লেখেন, অসুরবধের জন্য দেবতারা ১০টি হাত দিয়েছিলেন, আর বিজেপি সরকার অতিরিক্ত একটি হাত দিয়েছে পুজোয় নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়া দিতে আসা লোকদের কানমোলা দেওয়ার জন্য।
বিজ্ঞাপনটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও শুরু থেকেই এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ‘যান্ত্রিক ভুল’ বলে দাবি করে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, বিজ্ঞাপন সংস্থার ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে এবং এটি নিয়ে অনাবশ্যক রাজনীতি করা অনুচিত। তবে বিতর্কের আবহেই প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সমস্ত দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী।