নিজের স্ত্রীর কন্যা সম্প্রদান করলেন স্বামী! অভিনব প্রতারণায় তোলপাড় দেগঙ্গা।
বার্তা ডেস্কঃ
September 8, 202610:33 am
দেগঙ্গা: উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা। নিজের স্ত্রীকে কখনও ভাইঝি, আবার কখনও নিজের কন্যা পরিচয় দিয়ে একের পর এক পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিতেন এক প্রৌঢ়। উদ্দেশ্য ছিল— বরপক্ষের থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ও সোনার গয়না হাতিয়ে চম্পট দেওয়া। অবশেষে নববিবাহিত এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সেই প্রতারক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার এক প্রৌঢ় ঘটকের মাধ্যমে ওই যুবতীর সন্ধান পান। মাসখানেক আগে একটি মন্দিরে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় যুবতীর ‘কাকা’ সেজে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তিনিই কন্যা সম্প্রদান করেন। দাবি করেছিলেন, ওই যুবতী তাঁর একমাত্র ভাইঝি এবং পরিবারে তাঁদের আর কেউ নেই।
তবে বিয়ের কিছুদিন পরেই বরের সন্দেহ জাগে। নিজস্ব উদ্যোগে খোঁজখবর নিতে গিয়ে তাঁর সামনে আসে চমকপ্রদ তথ্য। তিনি জানতে পারেন, যাঁর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে, তিনি বহু পূর্বেই বিবাহিতা। আর যে ‘কাকা’ বিয়ের আসরে কন্যা সম্প্রদান করেছিলেন, তিনিই আসলে যুবতীর আইনি স্বামী! শুধু তা-ই নয়, এই দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তাঁদের বিয়েও হয়ে গিয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্তদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা প্রথমে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর পর প্রতারিত বর দেগঙ্গা থানার দ্বারস্থ হন।
পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করে। জেরার মুখে তাঁরা স্বীকার করেন যে, এর আগেও একাধিক পরিবারকে একই কৌশলে ঠকিয়েছেন তাঁরা। লোকলজ্জা ও অল্প খরচে বিয়ের অজুহাতে মন্দিরে বিয়ের ব্যবস্থা করা হতো, যাতে লোকসমাগম কম থাকে। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিতেন ওই নারী।
প্রতারণার এই সুনির্দিষ্ট চক্র চালানোর অভিযোগে পুলিশ দম্পতিকে গ্রেফতার করে তদন্তের স্বার্থে বারাসাত মহকুমা আদালতে পেশ করেছে।