প্রেমিকের শরীরে ২৮ কোপ, তরুণীর ১২ বছরের কঠিন সাজা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 9, 202612:33 pm
যৌন সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার দায়ে এক তরুণীর কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ বছর করেছে মালয়েশিয়ার একটি আপিল আদালত। ২০২২ সালের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিম্ন আদালত অভিযুক্ত তরুণীকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে উচ্চ আদালতের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সাজা বাড়িয়ে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জোহর বাহরুর একটি হোটেলে ১৯ বছর বয়সী অভিযুক্ত তরুণী (আদালতে যাকে ‘শাই’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে) এবং তাঁর ২৯ বছর বয়সী প্রেমিক ওঠেন। ঘটনার রাতে প্রেমিক শারীরিক সম্পর্কের দাবি জানালে তরুণী ঋতুস্রাবের কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রেমিক একটি ধারালো ছুরি বের করে তরুণীকে ভয় দেখাতে শুরু করেন।
তরুণী অস্ত্রটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি বেধে যায়। সংঘাতের একপর্যায়ে তরুণী প্রেমিকের বুক লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিহতের শরীরে প্রায় ২৮টি গুরুতর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
মামলাটিতে তরুণী ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’-এর ধারায় অভিযুক্ত হন। সাজা বৃদ্ধির রায়ে আপিল বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি এভরোল ম্যারিয়েট পিটার্স পর্যবেক্ষণ দেন যে, অপরাধের তীব্রতার তুলনায় নিম্ন আদালতের দেওয়া শাস্তি অত্যন্ত নমনীয় ছিল। আসামির কম বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করলেও অপরাধের ভয়াবহতা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব সুনিশ্চিত করতেই শাস্তির মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে।