একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় উনুন জ্বলবে না ঘরে: অরন্ধনে কী কী পদ রাঁধবেন? জানুন নিয়মকানুন
বার্তা ডেস্কঃ
September 16, 202611:02 am
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লোকাচারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘রান্না পুজো’ বা ‘অরন্ধন’। নাম শুনেই বোঝা যায়, এই বিশেষ দিনে বাড়িতে উনুন জ্বালানো নিষেধ এবং নতুন করে কোনো রান্না করা হয় না। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে (১৮ সেপ্টেম্বর / ৩১শে ভাদ্র) পালিত হয় এই পর্ব। নিয়ম অনুযায়ী, আগের দিন গভীর রাত জেগে রকমারি পদ রান্না করে রাখা হয়, আর পুজোর দিন সেই বাসি খাবারই পরম তৃপ্তি করে পরিবারের সকলে মিলে খাওয়া হয়।
অরন্ধনের নিয়ম ও বিশ্বাস
- দেবী মনসার আরাধনা: এই উৎসব মূলত দেবী মনসার পুজোকে কেন্দ্র করে। হেঁশেলের একটি অংশ পরিষ্কার করে ফণিমনসা বা শালুক গাছের ডাল সাজিয়ে মনসার ঘট বসিয়ে পুজো করা হয়।
- বছরে দু’বার পালন: বছরে দু’বার এই অরন্ধন পালিত হয়—একবার মাঘ মাসের শীতলষষ্ঠীতে (সরস্বতী পুজোর পরদিন) এবং অন্যটি ভাদ্র সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন।
- আদি বাঙালির পার্বন: প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, অরন্ধন মূলত পশ্চিমবঙ্গের আদি বাঙালি বা এদেশীয়দের (ঘটি) ঐতিহ্যবাহী ঘটি-সংস্কৃতির অংশ।
রান্না পুজোর স্বাদ ও খাবারের তালিকা অরন্ধন মানেই সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় ঘরোয়া পদের ভূরিভোজ। পুজোর আগের রাতে তৈরি করা পদের তালিকায় থাকে:
- প্রধান খাদ্য: জল দেওয়া পান্তা ভাত।
- আমিষ পদ: ইলিশ মাছের রকমারি পদ, চিংড়ি ও অন্যান্য মরসুমি মাছ।
- নিরামিষ পদ: নানা রকমের ভাজাভুজি, ছোলা-নারকেল দিয়ে কচুশাক, চালকুমড়ো, মুগ ও খেসারির ডাল।
- মিষ্টি ও চাটনি: তালের বড়া, মালপোয়া এবং টক-মিষ্টি চালতা-গুড়ের চাটনি।
আজকের ব্যস্ত নগরজীবনে এই লোকাচারের বহর কিছুটা কমলেও গ্রামবাংলা ও শহরতলিতে অরন্ধনের পুরনো ঐতিহ্য আজও অটুট। দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার ঠিক আগে দুর্গাপুজোর প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবেই যেন এই উৎসব বাঙালির আড্ডায় নতুন স্বাদ যোগ করে।