চোখের সামনেই তলিয়ে গেল ছেলে! মন্দারমণিতে মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 202611:08 am
মন্দারমণি: আনন্দের সফর নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। মন্দারমণির উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন দুই পর্যটক, যাদের মধ্যে একজন ১০ বছরের শিশু। এই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ আরও এক যুবক। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ, মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটে।
পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদের নাম সোমনাথ হালদার (১০) এবং বৃষ্টি শীল (১৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিখোঁজ রয়েছেন বৃষ্টির স্বামী সুমন শীল (২৪)। এরা সকলেই নদিয়া জেলার বাসিন্দা। সোমনাথের বাড়ি কৃষ্ণগঞ্জে এবং সুমন-বৃষ্টি দম্পতি শান্তিপুরের বাগদেবীপুরের বাসিন্দা। স্থানীয় পুলিশ ও নুলিয়াদের তৎপরতায় সোমনাথ ও বৃষ্টিকে উদ্ধার করে বড় রাঙ্কুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
চোখের সামনে ভেসে গেল সন্তান! নদিয়া থেকে কাজ ও বেড়ানোর সূত্রে আসা দুটি পরিবার আলাদাভাবে সমুদ্রে স্নানে নেমেছিল। সোমনাথের বাবা সন্তু হালদার শোকে ভেঙে পড়ে বলেন, “ছেলে পাড়ের কাছেই ছিল, আমি একটু দূরে যাই। আচমকা এক বিশাল ঢেউ এসে সব ওলটপালট করে দেয়। ঢেউ কাটতেই দেখি ছেলে নেই! আমার সব শেষ হয়ে গেল।”
প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা ঘটনার পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানান, পর্যটকদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং ও নজরদারি চালানো সত্ত্বেও অসাবধানতার কারণেই বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সৈকতে নুলিয়াদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহেও মন্দারমণিতে সমুদ্রে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি মিলাতে না মিলাতেই ফের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত সৈকত শহর।