দলে কড়া অনুশাসন শুভেন্দুর, বিধায়কদের সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20269:48 am
আসানসোল: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ১০০ দিন পার হতেই পদ্ম-শিবিরের ভেতরে সমন্বয়ের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিছু বিধায়ক নিজেদের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে অন্য বিধানসভা এলাকায় অহেতুক হস্তক্ষেপ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের রাশ শক্ত হাতে ধরতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সম্প্রতি পশ্চিম বর্ধমানের নয়জন বিধায়কের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সমস্ত বিধায়ককে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া নিজের এলাকার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো বিধানসভা কেন্দ্রের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
কোন্দলের কেন্দ্রবিন্দু দুর্গাপুর ও আসানসোল সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম এবং আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়কদের মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। জেলা সাংগঠনিক বৈঠকে প্রকাশ্যে বিরোধ থেকে শুরু করে বার্নপুরের এক পুজো কমিটির পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে দ্বন্দ্ব—সব খবরই পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এমনকি দুর্গাপুরে এক বিধায়ক অন্য বিধায়কের এলাকায় গিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা—কোনো বিধায়ক অনুমোদন ছাড়া অন্য বিধায়কের এলাকায় প্রভাব দেখাতে পারবেন না। এমনকি মন্ত্রীরা কোনো এলাকায় সফরে গেলে, স্থানীয় বিধায়ককে তা আগে থেকেই জানাতে হবে যাতে বোঝাপড়ায় কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।
কড়া নজরদারির নির্দেশ জেলা সভাপতিকে বৈঠকে বেশ কয়েকজন বিধায়ক নিজের এলাকাতেই দলীয় কোন্দল ও স্থানীয় নেতৃত্বের অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে সরব হন। মুখ্যমন্ত্রী জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যকে সমস্ত স্তরের নেতাদের ওপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযোগ পেলেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। সম্প্রতি জামুড়িয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
এরপর রবিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও বিধায়কদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে দলীয় অনুশাসন মেনে চলার একাধিক কড়া বার্তা দেন।