দক্ষিণ কোরিয়ার মঞ্চে বাংলার জয়জয়কার, ছৌ নাচের জাদুতে মুগ্ধ বিশ্ব!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20269:42 am
কথা ছিল মাত্র একটি পালা পরিবেশন করার। কিন্তু নাচ শেষ হতেই বিদেশি দর্শকদের করতালি আর চিৎকার— “আরও দেখতে চাই!” দর্শকদের ভালোবাসার চাপে ফের মঞ্চে নামতে হলো শিল্পীদের। এমনই এক অবিস্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কোরিয়ার জিনদো শহর।
গত ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জিনদোয় অনুষ্ঠিত হয় ‘আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্মেলন ও উৎসব’। ইউনেস্কো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ দপ্তর এবং কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ (KSCH)-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে অংশ নেন পুরুলিয়ার ৮ জন ছৌ শিল্পী। সবকটি সফল পরিবেশনা শেষে গত মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন তাঁরা।
মঙ্গোলিয়ার গানের সুরে নাচ, মুগ্ধ বিদেশিরা কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার সেরা শিল্পীদের ভিড়ে আলাদাভাবে নজর কাড়েন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির ‘মনোরঞ্জন ছৌ ড্যান্স পার্টি’-র সদস্যরা। দলের পরিচালক ওস্তাদ কার্তিক কুমারের নেতৃত্বে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন শিল্পীরা। এমনকি মঙ্গোলিয়ার শিল্পীদের সুর ও গানের সঙ্গেও ছন্দ মিলিয়ে নাচ পরিবেশন করেন বাংলার এই তরুণ দল।
দর্শকদের আবেদনে পরপর ৩টি পালা অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে পুরুলিয়ার শিল্পীরা ফুটিয়ে তোলেন বিখ্যাত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পালা। শেষ দিনে মঞ্চস্থ হয় ‘তাড়কা বধ’। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হতেই বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দর্শকরা। তাঁদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত উদ্যোক্তারা শিল্পীদের আবার মঞ্চে পাঠান এবং তারা পরিবেশন করেন ‘শুম্ভ-নিশুম্ভ বধ’।
কোরিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তরুণ শিল্পীরা এই দলে থাকা তরুণ শিল্পী আকাশ মাহাতো, শক্তি মাহাতো ও সন্দীপ সিং মুড়াদের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। বিদেশের মাটিতে এত ভালোবাসা পেয়ে তাঁরা আবেগপ্লুত। পরিচালক কার্তিক কুমার জানান, বীর রসের এই ঐতিহ্যবাহী নাচের চাহিদা এখন বিশ্বজুড়ে দিন দিন বাড়ছে।
সাংস্কৃতিক চুক্তি ও ডিজিটাল উদ্যোগ উৎসবের পাশাপাশি জিনদো কাউন্টি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বিশেষ সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও শেখার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, পুরুলিয়ার কারুশিল্পীদের তৈরি শিল্পকর্ম আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে একটি ‘ডিজিটাল সহায়িকা’ চালুর উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।