টানা দু’দিন হামলার পর হাইকোর্টে কুণাল, দিলীপের কটাক্ষে তোলপাড় রাজ্য!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 202612:45 pm
কলকাতা: পরপর দু’দিন গাড়িতে হামলার পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত করা হচ্ছে। নিজের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। তিনি আদালতে দাবি করেন, একজন নির্বাচিত বিধায়কের ওপর পর পর দু’দিন প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জরুরি। তবে হাইকোর্ট এখনই দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেনি; স্বাভাবিক নিয়মেই মামলা তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
- প্রথম হামলা (শনিবার): হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। অভিযোগ, লোহার রড দিয়ে কাচ ভাঙার চেষ্টাও করা হয়। এই কারণে তিনি সভায় পৌঁছাতে না পেরে ভবানী ভবনে গিয়ে অভিযোগ জানান।
- দ্বিতীয় হামলা (রবিবার): বেলেঘাটায় নিজের বাড়ির কাছে নারকেলডাঙা এলাকায় ফের হামলার মুখে পড়েন বিধায়ক। অভিযোগ, পিছু ধাওয়া করে তাঁর গাড়ি ঘিরে হাতুড়ি ও পাথর দিয়ে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। কুণালের নিরাপত্তারক্ষীরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর নারকেলডাঙা থানায় মারধর ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করেছে।
শুরু রাজনৈতিক তর্কাযুদ্ধ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা। কুণাল ঘোষ এই হামলার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করলেও, বিজেপি সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “কুণাল ঘোষ ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে উস্কানি দেন যাতে তাঁর ওপর হামলা হয়। সংবাদ শিরোনামে থাকতেই এসব প্রি-প্ল্যান্ড নাটক করা হচ্ছে।”