দিল্লিতে দূষণ মোকাবিলায় কঠোর সিদ্ধান্ত, ৫০ শতাংশ কর্মীর জন্য বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20261:42 pm
নয়াদিল্লি: শীতের শুরুতেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকেছে দিল্লির আকাশ। দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রাজধানীর বায়ুদূষণ। এই সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। প্রকাশ করা হলো দিল্লি সরকারের বিশেষ ‘উইনটার অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৬’।
কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দর যাদব এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর যৌথ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত রাস্তায় যানবাহনের চাপ কমানো, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বাতাসে মারাত্মক ধূলিকণার মাত্রা কমানোই এই মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান লক্ষ্য।
১ নভেম্বর থেকে কী কী বড় পরিবর্তন আসছে?
- ৫০% অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম: ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক কর্মী অফিসে আসবেন এবং বাকি ৫০ শতাংশ কর্মীর জন্য ‘বাড়ি থেকে কাজ’ (Work From Home) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- অফিসের সময়ে পরিবর্তন (Staggered Timings): রাস্তায় একসঙ্গে যানবাহনের ভিড় এড়াতে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (MCD) সহ একাধিক সরকারি দফতরের কাজের সময়সীমায় ফারাক আনা হচ্ছে।
- দ্বিগুণ হচ্ছে পার্কিং ফি: ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে সাধারণ মানুষকে গণপরিবহনে উৎসাহিত করতে পার্কিং ফি একধাক্কায় দ্বিগুণ করা হলো। তবে দিল্লি মেট্রোর (DMRC) পার্কিং ক্ষেত্রে এই নিয়ম ছাড় পাবে।
নির্মাণকাজ ও গাড়ি চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা
বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ধূলিকণার ($PM_{2.5}$ এবং $PM_{10}$) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধুলো তৈরি করে—এমন যে কোনো সিভিল কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এমনকি ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত ধরনের নির্মাণ ও ভাঙাগড়ার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত ‘BS-VI’ স্ট্যান্ডার্ড ছাড়া অন্যান্য কোনো গাড়ি রাজধানীতে ঢুকতে পারবে না। শুধুমাত্র সিএনজি (CNG), বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহনই চলাচলের অনুমতি পাবে। ‘পিইউসি (PUC) না থাকলে জ্বালানি মিলবে না’ নীতিও শক্ত হাতে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
গণপরিবহনকে আরও গতিশীল করতে অতিরিক্ত ১৫০টি নতুন ই-বাস (E-bus) রাস্তায় নামাচ্ছে প্রশাসন। দিল্লির এই কঠিন ও কড়া পদক্ষেপ বায়ুদূষণের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে কতটা স্বস্তি দেয়, এখন সেটাই দেখার।