আসামে জঙ্গি নেটওয়ার্কের ছক, ৫ জায়গায় এনআইএ-র বিধ্বংসী হানা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20261:40 pm
সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে আবারও কি তৈরি হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনের ‘স্লিপার সেল’? আসামের একটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর কিছু নথিপত্র হাতে পেতেই মঙ্গলবার সকালে সক্রিয় হয়ে উঠল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সকাল হতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং ডায়মন্ড হারবারসহ পশ্চিমবঙ্গের মোট পাঁচটি বিভিন্ন জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল বাংলা যোগ? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে আসামে জঙ্গি সন্দেহে এক যুবককে জালে তোলেন এনআইএ আধিকারিকরা। ধৃত যুবকের সঙ্গে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জামাত-উল-মুজাহিদ্দিন বাংলাদেশ’ (JMB)-এর সরাসরি যোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। তাকে দফায় দফায় জেরা করার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা ল্যাপটপ, মোবাইল ও ডিজিটাল নথি খতিয়ে দেখতেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।
তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়, সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে বাংলার বেশ কিছু যুবককে উগ্রপন্থার দিকে টেনে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। পাশাপাশি, এ রাজ্যে জেএমবি-র একটি নতুন মডিউল সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলেও প্রাথমিক অনুমান। সমগ্র বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে রাজ্যে স্লিপার সেল তৈরির মূল ছক উপড়ে ফেলতেই এই তল্লাশি।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে জেএমবি-র মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার পুরনো একটি মামলায় ২০২৬ সালের জুন মাসেই ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ।
পাঁচ জায়গায় একযোগে তল্লাশি: আসামের মামলায় পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মঙ্গলবার ভোরে অভিযানে নামে এনআইএ-র বেশ কয়েকটি দল। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের দু’টি স্থান, ডায়মন্ড হারবারের একটি ও পূর্ব বর্ধমানের একটি এলাকা সহ মোট ৫টি স্পর্শকাতর জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এই তল্লাশিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ডিজিটাল সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি গোয়েন্দা সংস্থা।
আগেও মেলে একাধিক জঙ্গি যোগ: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি ডেরা বা স্লিপার সেলের উপস্থিতি নতুন নয়। এর আগে পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে হামিদ-ই-মহম্মদ নামের এক সক্রিয় জইশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। হামিদ বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলায় আত্মগোপন করে ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, গাড়ি ও পার্কিং সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে হাবড়া থেকেও রানা রইউফ সহ বেশ কয়েকজনকে জালে তোলেন গোয়েন্দারা।
মঙ্গলবারের এই আচমকা হানায় বাংলায় বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্ক চ্যাঙদোলা করার তদন্ত আরও একধাপ গতি পেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।