মমতার জনসভা নিয়ে পুলিশি রিপোর্ট ভুয়ো! বিস্ফোরক তৃণমূল
বার্তা ডেস্কঃ
শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ সভায় ঠিক কত জন সমর্থক হাজির ছিলেন? এই নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিল পুলিশ। পুলিশের দাবি, সে দিনের সভায় কর্মী-সমর্থক মিলিয়ে আনুমানিক সাড়ে তিনশো (৩৫০) জন উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশের এই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। তাঁদের দাবি, সভাস্থল ও সংলগ্ন রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষ হাজির ছিলেন।
কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি মেনেই শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠে এই সভা আয়োজন করেছিল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। সভার প্রধান বক্তা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্ট শর্ত দিয়েছিল, সভায় কোনোভাবেই ১ হাজারের বেশি মানুষ যেন জমায়েত না হন। সভা শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খোঁচা দিয়ে দাবি করেছিলেন, সভায় সাকুল্যে ১৫০ জন সমর্থক এসেছিলেন। সাথে ১৭০ জন পুলিশকর্মী ও ২০০ জন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি মিলিয়ে মেরেকেটে ৫০০ জনের উপস্থিতি ছিল।
এই বিতর্কের আবহেই হাইকোর্টে পুলিশের দেওয়া রিপোর্ট যেন সেই কটাক্ষেরই সিলমোহর দিল। তবে এই পরিসংখ্যান মেনে নিতে নারাজ শাসকদলের কালীঘাটপন্থী নেতৃত্ব।
চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “নেত্রী আসার আগে বৃষ্টির কারণে মাঠ কাদায় ভর্তি ছিল। সেই ফাঁকা মাঠের ছবি তুলে বিরোধীরা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। সাড় ৪টে নাগাদ নেত্রী যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন মাঠের চারপাশের রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছিল। ভিড় আটকাতে পুলিশ নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে, তাই এখন কাল্পনিক রিপোর্ট জমা দিচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “গত ১৫ বছরে মানুষ সব সহ্য করেছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তৃণমূলকে রাজ্যের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই এই সব সভা নিয়ে সাধারণ মানুষের আর কোনো আগ্রহ নেই।”
রাজ্যে পরিবর্তনের পর জেলা সফরে এটিই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় কর্মসূচি। তবে সভার দিন উপস্থিতির সংখ্যা ঠিক কত ছিল— ৩৫০ নাকি কয়েক হাজার— তা নিয়ে শাসক-বিরোধী রাজনীতির জলঘোলা অব্যাহত।