‘প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে ইগো নেই’, দিল্লিতে নমনীয় মমতা! বঙ্গ রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে বিপর্যয়ের পরই কি জাতীয় স্তরে সুর বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই তুঙ্গে। একসময় ‘বিজেপিকে একমাত্র তৃণমূলই রুখতে পারে’ দাবি করা তৃণমূল নেত্রী এখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্ব মেনে নিতেও রাজি।

বুধবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ইস্যুতে ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের বৈঠক বসে। সূত্রে খবর, সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে মমতা স্পষ্ট জানান, ‘কংগ্রেসই প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে পারে। এ বিষয়ে আমার কোনও ইগো নেই। শুধু সকলের সহমত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও একই সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। রাহুল গান্ধীকে বিরোধী জোটের মুখ করা নিয়ে প্রশ্নে মমতার জবাব, “আমরা একটা কালেক্টিভ পরিবার, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের বড়সড় বিপর্যয়ের পরই জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। অস্তিত্ব রক্ষাতেই এখন কংগ্রেসের ‘হাত’ শক্ত করতে মরিয়া কালীঘাট।

‘তৃণমূল অতীত, পাপের ফল!’— তোপ শুভেন্দু-শমীকের

মমতার এই নমনীয় অবস্থানকে তীব্র আক্রমণ করেছে বঙ্গ বিজেপি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের সভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গত মে মাসেই বলেছিলাম তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। পাপের ফলে আজ ১৫০ দিনে জোড়াফুল বা তৃণমূল— কারও চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই, এরা মৃত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অতীত। আমরা চাই কংগ্রেস, সিপিএম আর এই মৃত তৃণমূল সব এক হয়ে লড়াই করুক, তাও বিজেপির জয় আটকানো যাবে না।”

কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরামর্শ অধীরের, জোট থেকে ছাঁটাইয়ের দাবি ‘গণতান্ত্রিক টিএমসি’র

মমতার এই পদক্ষেপে বিরোধী শিবিরের অন্দরেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

  • অধীর চৌধুরীর পরামর্শ: প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী কটাক্ষের সুরে মমতাকে সরাসরি কংগ্রেসে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এত ঝামেলা না-করে উনি সোজাসুজি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দিন না! উনি তো একসময় কংগ্রেসের নেত্রীই ছিলেন।”
  • ‘গণতান্ত্রিক টিএমসি’র ক্ষোভ: অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক টিএমসি’র নেতা আখরুজ্জামান দাবি তোলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিবিরোধী জোটে আসলে ঘোঁট পাকাচ্ছেন। ‘ইন্ডিয়া’ জোট সত্যি শক্তিশালী হতে চাইলে মমতাকে বাদ দেওয়া উচিত।”

‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে নির্বাচন কমিশনকে তোপ

দিল্লির বৈঠক শেষে ফের একবার নির্বাচন কমিশন ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাংলার ভোটগণনায় কারচুপি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, “ভোটে কারচুপি করে বিজেপিকে জেতানোর জন্যই কাজ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও বিচার পাইনি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *