‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম দিন, না হলে ইস্তফা!’ বেহাল রাস্তার চোটে বিচারপতির আল্টিমেটাম
সল্টলেক থেকে জোকা ২৭ কিলোমিটারের ধকল, বেহাল রাস্তা ও তীব্র যানজটের অজুহাতে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে অস্বীকার করলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। বিচারপতির সাফ দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে ১০-১২ কিলোমিটারের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করতে হবে, অথবা তাঁকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর অনুমতি দিতে হবে। এই দুটি শর্তের একটিও পূরণ না হলে আগামী ২ নভেম্বর তিনি পদত্যাগ করবেন বলে চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
২০১৭ সালে অবসর নেওয়া বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে সল্টলেকের বিকে ব্লকে থাকেন। প্রতিদিন সল্টলেক থেকে জোকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’-এ ট্রাইব্যুনালের কাজে পৌঁছতেই তাঁর সিংহভাগ সময় কেটে যাচ্ছে। তিনি জানান, দীর্ঘ পথ, রাস্তার খানাখন্দ এবং ফিরতি পথে যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
এক নজরে মামলার পরিস্থিতি ও জটিলতা:
- বিশাল কাজের চাপ: মুর্শিদাবাদ জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে। এই জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
- ধীরগতিতে নিষ্পত্তি: যাতায়াতের ক্লান্তি ও সময়ের অভাবে দিনে ১০টির বেশি আবেদনের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পর্যন্ত ৪২৫টি আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন তিনি, যার মধ্যে ৩৫০ জনের নাম ভোটার তালিকায় ফেরানো হয়েছে এবং ৭৫টি আবেদন বাতিল হয়েছে।
- নতুন পোর্টাল ঘিরে অসন্তোষ: ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন আধার-কেন্দ্রিক একটি নতুন পোর্টাল চালু করেছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মধ্যে ১১ জনই এই পোর্টালে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ নন বলে আপত্তি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে হাইকোর্ট এই ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় ২২ লক্ষ ভোটার পুনরায় আবেদন জানিয়েছেন।
অন্য দিকে, জটিলতা কাটাতে নির্বাচন কমিশন পুরোনো ‘ফর্ম ৬’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর পরেই যোগ্য ভোটারদের দ্রুত নাম তুলতে জেলা প্রশাসনকে বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালুর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মিনা।