‘অনুব্রত তো বাঘ!’ সিউড়ি কাণ্ডে পাশে হেভিওয়েটরা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল
বীরভূম: সিউড়িতে অনুব্রত মণ্ডলের (কেষ্ট) পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও কলার ধরে ‘হুমকি’ দেওয়ার ঘটনায় বীরভূমের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় আটক ৩ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আর তাতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ঘটনার পর সিউড়ি থানার পুলিশ আকাশ দেবনাথ, ঋষভ গৌর নামে দুই যুবক এবং এক নাবালককে আটক করেছিল। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় বৃহস্পতিবার ভোরেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরই সরব হন তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও ঋতব্রতর প্রশ্ন, “পুলিশ কেন স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Moto) মামলা করল না? তাদের কে বারণ করেছিল?”
কেষ্টর পাশে হেভিওয়েটরা, প্রতিরোধের ডাক: বৃহস্পতিবার বোলপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের পাশে এসে দাঁড়ান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও চন্দ্রনাথ সিংহ। সেখান থেকেই কড়া ভাষায় প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়।
- মদন মিত্রের মন্তব্য: “অনুব্রত মণ্ডল বাঘ, নাকি বাঘের ছাল পরা কেউ, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। গতকাল ও বাঘ বলেই অত ধৈর্য ধরেছিল। ও উঠে দাঁড়ালে সবাই পালিয়ে যেত।”
- হুঁশিয়ারি: আগামী ৯ অক্টোবর অনুব্রত মণ্ডল ফের সিউড়ির সেই দলীয় কার্যালয়ে যাবেন। আক্রমণ হলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দরিদ্র পরিবার, মেটেনি সরকারি সাহায্য: আটক তিনজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গিয়েছে চরম আর্থিক অনটনের ছবি। নাবালকের বাবা রাস্তার পাশে জামাকাপড় ইস্ত্রি করে সংসার চালান। ঋষভের মাথার ওপর স্রেফ ত্রিপলের ছাউনি, মেলেনি আবাসন যোজনার সরকারি ঘরও। ঋষভের মায়ের বক্তব্য, “ছেলে অন্যায় করেছে, তবে ও কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়।”
‘সেই দিন আর নেই’, কটাক্ষ বিজেপির: ঘটনা নিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নিজের অফিস ভাঙা সত্ত্বেও অনুব্রত কোনো লিখিত অভিযোগ করলেন না। উল্টে বিজেপির নামে দোষ দিয়ে সস্তার রাজনীতি করছেন। ওঁর বোঝা উচিত, ওঁর আর সেই দিন নেই।”