৮৫ কোটির দুর্নীতি ও ৩০ লাখের রয়্যালটি, ইডির জালে এবার ইন্দ্রনীল!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বিক্রি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে প্রায় এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জিজ্ঞাসাবাদের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে, যা ঘিরে শাসকদলকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি।
ইডির দাবি, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অনিয়মের টাকা ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট হয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ওই সংস্থায় প্রায় ৩.৮ কোটি টাকার নগদ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। যদিও ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, এই অর্থ রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল। পাস বিক্রির টাকা আর কোথায় কোথায় পৌঁছেছে, তা এখন খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা।
ইডির এই দাবির পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে বিজেপি। ফেসবুক পোস্টে তোপ দেগে বিজেপির দাবি, বাঙালির আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য করা এবং ইউনেস্কোর নাম ও লোগো অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে টিকিট বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। নিয়ম ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির কটাক্ষ, এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে তোলাবাজি শুধু স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং একেবারে শীর্ষ থেকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো।
উল্লেখ্য, জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু করে ইডি। অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও তাঁর স্ত্রী তথা ‘ম্যাসআর্ট’-এর সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েছে। ২০২২ সাল থেকে বিগত তিন বছর ধরে পাসের নামে সংগৃহীত বিপুল অর্থ ও সরকারি চুক্তির অনিয়ম এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার স্ক্যানারে।