‘সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত!’ ইভিএম বিতর্কে বড় সাফাই নির্বাচন কমিশনের!

বার্তা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে টানাপোড়েনের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে যাবতীয় জল্পনা এক ঝটকায় খারিজ করে দিল কমিশন সূত্র। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে SIR নিয়ে কোনো ধরনের মতবিরোধ হয়নি। কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ সর্বসম্মতিক্রমে।

সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে কেন্দ্রীয়করণ, Form 6-এ বদল এবং নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত অন্তত ১৪টি নির্দেশনায় আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। বিরোধী ‘INDIA’ জোটও এই নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সওয়াল তোলে। তবে কমিশন সূত্রে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

SIR-এর মূল উদ্দেশ্য এবং Form 6 বিতর্ক: নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য—

  • স্বচ্ছ তালিকা তৈরি: SIR হলো বহু বছর ধরে চলে আসা একটি আইনি ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত, ভুয়ো বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারদের চিহ্নিত করা এবং যোগ্য কোনো নাগরিক যেন বাদ না পড়েন তা সুনিশ্চিত করা।
  • Form 6-এ কোনো পরিবর্তন নেই: নতুন ভোটার নথিভুক্তিকরণের ফর্ম নিয়ে ওঠা জল্পনা উড়িয়ে কমিশন জানিয়েছে, Form 6-এ কোনো রদবদল করা হয়নি।
  • পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা: ১৯৮৭ সালের পর জন্ম নেওয়া নাগরিকদের থেকেই নথি চাওয়া হচ্ছে। কোনো ভুল বা ডুপ্লিকেট নাম থাকলে তা সফটওয়্যারের মাধ্যমেই শনাক্ত করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট ও মাঠপর্যায়ের কাজের ব্যাখ্যা: কমিশন সূত্র স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্ট এই SIR প্রক্রিয়ায় কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। বরং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

এ ছাড়া, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কাজ বিকেন্দ্রীভূত। প্রায় ২৫,০০০ ERO এবং AERO স্তরে এই কাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। ভোটার যাচাইয়ের জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কেউ বাড়িতে না থাকলে অন্তত ৩ বার ভিজিট করার নিয়ম রয়েছে।

গোয়া বিতর্ক ও রাহুল গান্ধীর অভিযোগের জবাব: সম্প্রতি ওঠা একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন:

  • গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের নাম বাদ: প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গোয়ায় ৯৭ জনের নাম বাদ পড়েছিল। এর মধ্যে ৮৮ জনের নাম ইতোমধ্যে যোগ করা হয়েছে। ৩ জন পর্তুগালের নাগরিক বলে জানা গেছে এবং ৬ জন বিদেশে রয়েছেন।
  • বেলা এস্টেটের ৭২৭ জন ভোটার (রাহুল গান্ধীর অভিযোগ): দিল্লি বেলা এস্টেটে BLO-রা গিয়ে কাউকে পাননি বলে স্বাক্ষর নেওয়া যায়নি। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, SIR ফর্মে স্বাক্ষর করে জমা দিলেই খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নিশ্চিত করা হবে।
  • ১১ কোটি ভোটারের নাম ফেরানোর দাবি: বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে যাঁদের পুনরায় মাঠপর্যায়ে যাচাই (re-verification) প্রক্রিয়া এখনো বকেয়া রয়েছে, তাঁদের নাম যুক্ত করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই দাবি বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *