নন্দীগ্রাম ভোটে স্বস্তি, লড়াইয়ের অনুমতি পেলেন মমতা!
বার্তা ডেস্কঃ
নন্দীগ্রাম: উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিনই সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের দাবিতে রাজ্য সরকার যে আবেদন করেছিল, তাতে আপাতত কোনো হস্তক্ষেপ করল না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন— “ওকে লড়তে দিন, ভোটটা শান্তিতে হতে দিন।”
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা আগে সোমবার এই মামলার জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সর্বোচ্চ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে জানায়, নির্বাচনের পরেই মামলার শুনানি করা যাবে।
“১৯ বছর ধরে পুলিশ কী করছিল?”— প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, ২০০৭ সালের খুনের অভিযোগ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মিলন প্রধান যুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট ছিল। পাল্টা প্রার্থীর আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি বলেন, “২১ দিনের অন্তর্বর্তী জামিনে রয়েছেন প্রার্থী। ভোটের আগের দিন ২০০৭ সালের পুরোনো মামলা তুলে হেনস্থা করা হচ্ছে।”
দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ জানান, “আগে ভোটটা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হতে দিন। যে সব পুলিশ অফিসার জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও ১৯ বছর ধরে এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেননি, আদালত নির্দেশ দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী
এ দিন এই মামলা শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বিচাপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি জানান, ২০০৭ সালে আইনজীবী হিসেবে তিনি এই মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই ব্যক্তিগত কারণে তিনি এটি শুনবেন না।
হাই কোর্টের জামিন ও রাজনীতির সমীকরণ
এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ মিলন প্রধানকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। শর্ত ছিল, নির্বাচন প্রক্রিয়া মিটলেই তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সেই রায়কেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিল রাজ্য।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে নাম ঘোষণার পর থেকেই একটার পর একটা পুরোনো মামলায় তাঁকে জড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস নেতৃত্বের।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “রাজ্য সরকারের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আমাদের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। এটা গণতন্ত্র ও নন্দীগ্রামবাসীর জয়।”