কুনোয় সুখবর, একসাথে ৫ চিতা শাবকের জন্ম!
বার্তা ডেস্কঃ
ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন সোনার পালক। মধ্যপ্রদেশের বিখ্যাত কুনো জাতীয় উদ্যানে জন্ম নিয়েছে পাঁচটি ফুটফুটে চিতাশাবক। সোমবার এই নতুন পাঁচ অতিথির আগমনের পর বর্তমানে দেশে মোট চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০টিতে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, এই ৬০টি চিতার মধ্যে ৪১টি চিতার জন্ম হয়েছে ভারতের মাটিতেই, যা ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সাফল্যকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেল।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খুশির খবর ভাগ করে নেন। তিনি জানান, ৩২ মাস বয়সি মাদী চিতা ‘KJP21’ এই পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, ‘মুখী’ ও ‘KGP12’-এর পর ‘KJP21’ হলো তৃতীয় চিতা, যা ভারতে জন্ম নিয়ে সফলভাবে মাতৃত্বের স্বাদ পেল। বর্তমানে সদ্যজাত শাবকগুলি ও তাদের মা পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে এবং বন দফতরের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জন্ম শুধু সংখ্যার নিরিখে নয়, চিতা পরিবারের বংশরক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন পাঁচ শাবকের পিতা বোতসোয়ানা থেকে আনা একটি পুরুষ চিতা। এর ফলে ভারতের মাটিতে বেড়ে ওঠা চিতা পরিবারে বোতসোয়ানার নতুন জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic Diversity) যুক্ত হলো, যা ভবিষ্যতে চিতাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বংশবৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
প্রায় সাত দশক আগে ভারত থেকে চিতা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে চালু হওয়া ‘প্রজেক্ট চিতা’র মাধ্যমে সেই হারানো ইতিহাস আবারও নতুন রূপ পাচ্ছে। কুনো জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যেও দ্রুত গতিতে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। একের পর এক সুস্থ শাবকের জন্ম প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ভারতের জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন চিতাদের স্বাভাবিক বাসস্থানের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত।