নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে অবাধ ভোটের দাবি শুভেন্দুর, পুলিশি তাণ্ডবে উত্তাল পরিস্থিতি!

বার্তা ডেস্কঃ

রাজ্যে বিজেপি জমানার প্রথম উপনির্বাচন রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর—এই দুই কেন্দ্রে মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা বিগত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা কম। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে নির্বাচন সংক্রান্ত মোট ৯৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি ও জয়ের আত্মবিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উপনির্বাচনকে সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে বিজেপি রেকর্ড মার্জিনে জিতবে এবং রেজিনগরেও অন্তত ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে। বিরোধীদের সংগঠন না থাকা এবং বুথ এজেন্ট দিতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতেই তারা এই ধরনের মনগড়া অভিযোগ তুলছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, বোমাবাজি বা খুনের মতো বড় কোনো অশান্তি ছাড়া ছোটখাটো তর্কবিতর্ক বাদ দিলে ভোট প্রক্রিয়ায় বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরকে আটক ঘিরে রাজনীতি ভোটগ্রহণের দিন সকালেই নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ আটক করে। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন অভিযোগ করেন, প্রশাসন বুথ দখল ও ভোট লুটে সাহায্য করছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তিনি থানা থেকে ছাড়া পান। এই ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী দাবি করেন, হুমায়ুন কবীরকে লড়াকু নেতা হিসেবে তুলে ধরতেই পরিকল্পিতভাবে এই আটকের দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে।

বিরোধীদের রিগিং ও বুথ দখলের অভিযোগ রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্রেই ব্যাপক ছাপ্পা ভোট, বিরোধীদের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া এবং সাধারণ ভোটারদের বাধাদানের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি।

  • রেজিনগর: কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহালি কাফি ও ‘মমতা-এআইটিসি’ প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেজিনগর থানার সামনে অবস্থানে বসেন। সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সাইদ অভিযোগ করেন, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শাসকদল ভোট লুটের উৎসব চালিয়েছে।
  • নন্দীগ্রাম: কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের সঙ্গে একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মী ও পুলিশের বচসা হয়। একাধিক বুথে বিরোধীদের এজেন্টদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে।

এই চরম অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, নির্বাচন অত্যন্ত আনন্দের আবহেই সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *