নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কি পদ্মঝড়, ভোট গণনার আগেই বড় জয়ের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর!

বার্তা ডেস্কঃ

ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হতেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বড়সড় রাজনৈতিক দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দুই আসনেই বিপুল জয় পেতে চলেছে বিজেপি। নন্দীগ্রামে পূর্বের তুলনায় এবার জয়ের ব্যবধান বহুগুণ বাড়বে এবং রেজিনগরেও বিশাল ব্যবধানে প্রার্থীরা জয়ী হবেন।

ভোটের দিন শেষে নিজের নির্বাচনী হিসাব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর বিগত মার্জিনের তুলনায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছেন। অপরদিকে রেজিনগর আসনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয় হাসিল করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

রেজিনগরের ভোট সমীকরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশেষ করে তরুণ ও মহিলা ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাজ্য জুড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে ২৪ লক্ষের বেশি মুসলিম নারী রয়েছেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এই প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত প্রায় ৯০ শতাংশ সংখ্যালঘু নারী বিজেপিকেই সমর্থন করেছেন। পাশাপাশি আবাস যোজনার সুফল পাওয়া সংখ্যালঘু পরিবারগুলিও বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রবীণ সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে ঝুঁকেছেন।

বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করে তিনি বলেন, দুই কেন্দ্রেই বাম ও তৃণমূলের কোনো সাংগঠনিক অস্তিত্ব ছিল না। তাঁর কথায়, “নন্দীগ্রামে সিপিআই এক-দেড় হাজার ভোট পাবে কি না সন্দেহ রয়েছে, আর রেজিনগরে সিপিএমের স্থান নোটার (NOTA) নিচেও নেমে যেতে পারে।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট নথিভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রেই সামগ্রিক ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। এখন সমস্ত নজর আগামী ৯ অক্টোবরের দিকে, সেদিনই ইভিএম খুললে স্পষ্ট হবে দুই কেন্দ্রের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *